জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সমাধান করতে না পারায় ২০টি ব্যাংককে জরিমানা করছে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। ইসিবি এসব ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। সব ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
ইসিবি এরই মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এজন্য চলতি মাসে এবং গত মাসে দুই দফায় চিঠি দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, সমস্যা শনাক্তে মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার এ লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লে সাময়িক শাস্তি হিসেবে ব্যাংকগুলোর পয়েন্ট কমানো হবে।
তবে এ বিষয়ে ইসিবির মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইসিবি ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করছে যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়নি। প্রাণ-পরিবেশের ওপর আবহাওয়ার চরম আঘাত এলে সম্পদের মূল্য কমবে। এছাড়া কার্বন নিঃসরণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাবে।
ইসিবির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা গত সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘জরিমানা একটা কৌশল। এর মাধ্যমে কার্যকরী পর্যবেক্ষণ করা যায়। অব্যবস্থাপনা অপসারণে অতিরিক্ত করারোপও করা যেতে পারে।’
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। এটাকে পরিবেশ, সমাজ এবং সুশাসনের (ইএসজি) ঝুঁকি অপসারণ করার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মাসে ইউরোপিয়ান ব্যাংকিং অথরিটি জানায়, ইএসজি খাতে অগ্রগতি অর্জন করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফ্রেমওয়ার্ক সংশোধন করছে। বিশেষ করে করপোরেট খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাপক পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে।
ইসিবি কেবল সুদহার নির্ধারণের দিকে নজর না দিয়ে ইউরোপ অঞ্চলের সার্বিক ব্যাংকিং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাত বিকাশের বাধাগুলো অপসারণ করতে চাচ্ছে।
ইসিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ব্যাংকগুলো প্রতিদিন তাদের গড় দৈনিক আয়ের ৫ শতাংশ প্রদান করবে। এ শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় মাস চলতে পারে।
ইসিবি কর্মকর্তারা জানান, ত্রুটিগুলো ব্যাংক ভেদে ভিন্ন। এটি অসম্ভব যে সবাইকে শাস্তি দেয়া হবে।
ইসিবি ইউরোপের ১০৯টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের তত্ত্বাবধান করে। জাতীয় কর্তৃপক্ষগুলো ছোট ছোট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান করে।
ইসিবি নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ফ্রাঙ্ক এল্ডারসন সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বলেন, ‘চলতি বছরের মার্চের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনেক ব্যাংক অর্থ বিতরণ করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর পোর্টফোলিওতে জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকির পর্যাপ্ত বস্তুগত মূল্যায়ন দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো এখনো যেকোনো ধরনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রাথমিক সূচনা পয়েন্টে"অবস্থান করছে।’










