২০৩৫ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত নতুন গাড়ি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্প্রতি এ নিয়ে জোর সমর্থন জুগিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের আরো ভালো অগ্রগতির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এক ধাপ এগিয়ে দিতেই এ পদক্ষেপ। খবর এপি।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই সমাবেশে গাড়ি প্রস্তুতকারকদের কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ আগামী দশকের মাঝ বরাবর ১০০ ভাগ কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ২৭টি দেশের ব্লকে পেট্রল বা ডিজেলচালিত নতুন গাড়িগুলো বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।
ইইউর আইনপ্রণেতারা ২০২১ সালের তুলনায় ২০৩০ সালে অটোমোবাইল খাত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ৫৫ শতাংশ কম করার বিষয়েও অনুমোদন দিয়েছে। এ পদক্ষেপ বর্তমানে চালু থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞাকেই আরো গভীর করবে। যেন গত বছরের তুলনায় চলতি দশকের শেষ নাগাদ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কম হয়।
পরিবেশবিদরা সংসদের এ সিদ্ধান্তের খুবই প্রশংসা করছেন। ব্রাসেলসভিত্তিক একটি জোট ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বলেছে, এ ভোটের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনকে দূরে সরানোর লড়াইয়ের একটি সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু জার্মানির অটো ইন্ডাস্ট্রির লবি গ্রুপ ভিডিএ এই ভোটের সমালোচনা করে বলেছে, তারা ইউরোপজুড়ে গাড়ি চার্জ করার অবকাঠামোগত অভাবকে উপেক্ষা করে গিয়েছে। এ ভোটকে তারা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নেয়া একটি সিদ্ধান্ত হিসেবেই উল্লেখ করেছে।
ইইউ দেশগুলোর মাধ্যমে অনুমোদিত হলেও ২০৩৫ সালের ডেডলাইন অর্জন করা জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খুবই কঠিন হবে। কারণ সংস্থাগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল যানবাহন তৈরি বিষয়ে একাগ্র। যদিও সংস্থাগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির কারণে পেছনে পড়ে যাবে।
২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড কমানোর লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত ইঞ্জিনের গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাবনা প্রথম ইইউএর নির্বাহী শাখা ইউরোপীয় কমিশনই দেয় গত বছর। ইউরোপে যে পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গত হয় তার ১২ শতাংশ হয় গাড়ি থেকে। ফলে ঘন ঘন ও তীব্র আকারে তাপপ্রবাহ, ঝড় এবং বন্যার মুখে পড়তে হয় দেশগুলোকে। যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
ইইউ সদস্য দেশগুলোকে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে নিজেদের রায় জানাতে হবে। ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০৩০ সালে ৫৫ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা করছে ইইউ। এর আগে যেখানে সবাই সম্মত হয়েছিল ৪০ শতাংশ কমাতে।
ফ্রান্সের ইপিপি আইনপ্রণেতা অ্যাগনেক ইভরেন অবশ্য এ সিদ্ধান্তে একটু কম খুশি। তার মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর চাপ তৈরি হবে এবং তার ফলে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করবেন ক্রেতারা।










