যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারদর বেড়ে ১৩ বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে নিম্নমুখী মজুদ। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটিতে গ্যাসের মজুদ স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে।

খরার প্রভাবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন তলানিতে নেমেছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে দেশটিকে। এ কারণে চাপ পড়েছে দেশীয় মজুদের ওপর।

পাইপলাইন সিস্টেমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বড় কেন্দ্র লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের হেনরি হাব। ফ্রন্ট-মান্থ সরবরাহ চুক্তিতে এ হাবে প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম ৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময় দাম ছিল মাত্র ৩ ডলার। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এটি সর্বোচ্চ দাম।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্থানে ভূগর্ভস্থ মজুদ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের কাজ চলছে, গত সপ্তাহে সেসব স্থানে জ্বালানির মজুদ ছিল ৩৪ হাজার ৮০০ কোটি ঘনফুট; যা মহামারীপূর্ব পাঁচ বছরের মৌসুমি গড়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম।

তথ্য বলছে, শুধু ১ এপ্রিল ও ২০ মে মজুদ বেড়েছিল। ওই সময় মজুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ হাজার কোটি ঘনফুট। তবে এটিও মহামারীপূর্ব ৪৬ হাজার ১০০ কোটি ঘনফুট মজুদের তুলনায় কম। অর্থাৎ মজুদ ঘাটতি কমার পরিবর্তে অব্যাহতভাবে বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে জ্বালানিটির ব্যবহার কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। আর সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে ঊর্ধ্বমুখী দাম। যতটুকু সম্ভব গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরে এসে কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন তারা। পাশাপাশি গ্যাসক্ষেত্র খনন ও উত্তোলন বাড়ানোর প্রতিও জোর দেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) প্রক্ষেপণ বলছে, চলতি বছর দেশটিতে ড্রাই গ্যাস উত্তোলন বেড়ে ৯ হাজার ৬৭১ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে।