দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৯ দিন পর গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও কোম্পানিটি বলছে, তারা নিয়মানুসার এজিএমের সব তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে।
গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, এ বছরের ২০ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া রিং শাইন টেক্সটাইলসের ২৩তম এজিএমে কোম্পানিটির ২০১৯-২০ হিসাব বছরের পুনর্মূল্যায়িত সম্পদ ও দায়ের বিষয়টি অনুমোদন হয়। পুনর্মূল্যায়িত হিসাবে কোম্পানিটির সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ পরিবর্তন হয়েছে এবং দেখা যায় যে কোম্পানিটি লোকসান করেছে। এ কারণে কোম্পানিটির পর্ষদ আলোচ্য হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এর আগে ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ এজিএমে অনুমোদন হয়নি এবং এটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বছরের ২০ জুন। আর গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির এজিএমের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মাঝখানে পেরিয়ে গেল ১৯ দিন। এ সময়ে কোম্পানিটির লভ্যাংশ প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে যারা এজিএমে উপস্থিত ছিলেন না কিংবা যারা রেকর্ড ডেটের পর কোম্পানিটির শেয়ার কিনেছেন তাদের পক্ষে এ সিদ্ধান্ত জানার কোনো সুযোগ ছিল না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিং শাইন টেক্সটাইলসের কোম্পানি সচিব অনিরুদ্ধ পিয়াল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিয়মানুসারে আমরা এজিএম শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এজিএমের কার্যবিবরণী, ভোটার লিস্টসহ যাবতীয় তথ্য অডিও এবং ভিডিও আকারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সেন্টার ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা উল্লেখ করে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কোম্পানির পাঠানো তথ্য যাচাই-বাছাই করে সেটির যথার্থতা নিশ্চিত হয়ে তারপর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হয়। এর আগে যখন কোম্পানিটি লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল সেটি ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। এবার যখন বিনিয়োগকারীরা এজিএমে লভ্যাংশ অনুমোদন করেননি সেক্ষেত্রে সেটি যাচাই-বাছাই করে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রকাশ করেছে।’
তবে এজিএমে সিদ্ধান্ত নেয়ার ১৯ দিন পর স্টক এক্সচেঞ্জে তথ্য প্রকাশের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএসইসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, লভ্যাংশ প্রত্যাহার করে নেয়ার মতো স্পর্শকাতর তথ্য এত দেরিতে প্রকাশ করা উচিত হয়নি। বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাঠানো তথ্য ওয়েসবাইটে প্রকাশ করা স্টক এক্সচেঞ্জের আইনি দায়িত্ব। এক্ষেত্রে কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এত দেরিতে কেন প্রকাশ করা হলো সে বিষয়টি কমিশন অনুসন্ধান করে দেখবে।’










