দেশের অন্যতম টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনকে টেলিকম খাতে দেশের প্রথম টেকসই লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সুবিধা (এসএলএল) দিয়েছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি)। এ প্রকল্পে একক সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছে এইচএসবিসি। সম্প্রতি উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী মো. মাহবুব উর রহমান স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি থেকেই তারা টেকসই অর্থায়নের পথে এগুচ্ছে। গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও সমাজে জন্য বাস্তবমুখী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সক্ষম ও টেকসই পৃথিবী গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং দেশের শিল্পখাতে টেকসই চর্চা এগিয়ে নিতেও তারা উদ্যোগ নিচ্ছে। প্যারিস চুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) তাদের এ লক্ষ্যের মূল ভিত্তি।
এ উদ্যোগের ফলে গ্রামীণফোনের জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপ ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা আরো জোরদার হবে বলে জানানো হয়েছে। টেকসই অর্থায়ন সুবিধাটি ২০১৯ সালের বেসলাইন অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে স্কোপ-১ ও স্কোপ-২ নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামসহ সব ই-ওয়েস্টের পুনর্ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করবে। এছাড়া উদ্যোগটির মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও প্রযুক্তিগত সচেতনতা বিস্তারে ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী জানান, সবুজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, ই-ওয়েস্ট পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার লক্ষ্য অর্জনে এ অংশীদারত্ব সহায়ক হবে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী বলেন, টেকসই রূপান্তরের পথে গ্রাহকদের পাশে থাকা তাদের অগ্রাধিকার। গ্রামীণফোনের সঙ্গে এ সহযোগিতা কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতিকে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করে বাজারে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ অংশীদারত্ব পুরো খাতে টেকসই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করছে এবং বাংলাদেশের টেলিকম শিল্পকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত প্রবৃসশির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করছে।
—বিজ্ঞপ্তি










