বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল দেশগুলোয় পণ্যটির সরবরাহ সংকুচিত হয়ে আসছে। চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যটির চাহিদা প্রবৃদ্ধি গতিশীল থাকলেও এসব দেশের উৎপাদন তা পূরণে সক্ষম হবে না। শ্রমিক সংকট, কঠোর রফতানি নীতি, সারের ঊর্ধ্বমুখী দামসহ নানা বিষয় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খবর রয়টার্স।

বৈশ্বিক পাম অয়েল রফতানির ৮৫ শতাংশই আসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। কিন্তু করোনা মহামারীতে সৃষ্ট শ্রমিক সংকটে উৎপাদন নিয়ে কয়েক বছর ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে দেশ দুটি। তার ওপর বেশি দামের কারণে সারের ব্যবহার কমিয়ে দেয়া এবং নতুন বাগান সম্প্রসারণের অভাব উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কৃষি বাণিজ্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এলএমসি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান জুলিয়ান ম্যাকগিল বলেন, হতাশাজনক একটি বছর অতিবাহিত করার পর ২০২৩ সালে পাম অয়েল উৎপাদন বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন ২৫ লাখ টন বাড়তে পারে। তা সত্ত্বেও রফতানির জন্য পর্যাপ্ত পাম অয়েল থাকবে না। কারণ ইন্দোনেশিয়ায় প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবার বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল ব্যবহার করবে। এছাড়া পাম থেকে জৈব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড (এমপিওবি) বলছে, চলতি বছর দেশটিতে পাম অয়েল উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৯০ লাখ টনে, ২০২২ সালে যা ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টন। মূলত শ্রমিক সংকটে উৎপাদনে গতি ফিরছে না।

ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (গাপকি) বলছে, এ বছর দেশটিতে ৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার টন উৎপাদন হতে পারে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৫ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টন।

ফাদিল হাসান নামে গাপকির এক কর্মকর্তা বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনে নিম্নমুখী ধারা তৈরি হয়েছে। ব্যবহারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। রফতানি চাহিদার পরিবর্তে এখন স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেশি।

তিনি আরো বলেন, ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল থেকে জৈব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এজন্য স্থানীয় বাজারে ২৫-৩০ লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের প্রয়োজন তৈরি হতে পারে।

এমপিওবির মহাপরিচালক পারভেজ গোলাম কাদির বলেন, চলতি বছর প্রতি টন পাম অয়েল ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ রিঙ্গিতে বিক্রি হতে পারে। গত বছরের রেকর্ড পর্যায় থেকে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার কারণে চীনে পাম অয়েল আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া রফতানি নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে সূর্যমুখী তেলবীজ উৎপাদন নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় সয়াবিনের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয় চলতি বছর পাম অয়েলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়তা করবে।

মালয়েশিয়ান বাজার আদর্শ পাম অয়েলের দাম গত বছর রেকর্ড সর্বোচ্চে উঠে গিয়েছিল। প্রতি টনের গড় দাম ঠেকেছে ৪ হাজার ৯১০ রিঙ্গিত বা ১ হাজার ১২৩ ডলার ৫৭ সেন্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ধারাকে বিঘ্নিত করেছে। এ কারণেই বাজারদরে এমন উল্লম্ফন দেখা দেয়।