বৈশ্বিক বিলাসবহুল পণ্যের বাজার আগামী বছর সংকুচিত হতে পারে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত শুল্কনীতি বাস্তবায়ন হলে এ পরিস্থিতি আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন কনসালট্যান্সির এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ইউরো নিউজ।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৭ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর বৈশ্বিক ব্যক্তিগত বিলাসবহুল পণ্যের বিক্রি আগামী বছর প্রথমবারের মতো সংকুচিত হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিশ্রুত শুল্ক আরোপ করলে সংকোচনের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

ইতালির আলটাগামা অ্যাসোসিয়েশন অব লাক্সারি প্রডিউসার্সের পক্ষে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক ক্লাউডিয়া দ’আরপিজিও জানান, ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাস্তবায়ন হলে তা একটি দুঃস্বপ্নের মতো হতে পারে। ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো এমনিতে তুলনামূলক ব্যয়বহুল। প্রতিকূল পরিবেশে সেগুলো আরো বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প আমদানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘‌এটি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বাজেট ঘাটতি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম কমাবে।’

গবেষণা প্রতিবেদনে শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে দ’আরপিজিও জানান, শুল্কনীতি কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে ইউরোপীয় বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতাদের ওপর এর প্রভাব। মার্কিন বিলাসবহুল পণ্যের অভাব এক্ষেত্রে একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্র বিলাসবহুল পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। আকার প্রায় (১০ হাজার কোটি ইউরো বা ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার)। বিশ্বব্যাপী উচ্চ মানের পোশাক, চামড়ার পণ্য ও জুতা বিক্রির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

কভিড-১৯ মহামারীর পর বিলাসবহুল পণ্যের বাজারে আবারো গতি ফিরছে। মহামারীর সময় লকডাউনে আটকে থাকা ব্যয়ের কারণে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বিক্রি বাড়ে।