নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে দেশে সার্বিকভাবে নারী উন্নয়নে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক সংস্কার— গতকাল ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ওয়েভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বিকাশ’ শীর্ষক জাতীয় সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব বলেন।

সিম্পোজিয়ামে আরো বলা হয়, এই সংস্কার হতে হবে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীন প্রক্রিয়ায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টি বিধিমালায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ইত্যাদিতে। গণতান্ত্রিক সংস্কার, শক্তিশালী সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামো এবং গুণগত ও শক্তিশালী রাজনীতি বিদ্যমান জেন্ডার অসমতার অবস্থা থেকে উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনসহ দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের বিষয়ভিত্তিক দুটি প্যানেল আলোচনা ও সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, নুসরাত তাবাসসুম ও সানজিদা ইসলাম তুলি।

অংশ নেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ও উপ-সচিব শাহ আলমসহ গণমাধ্যম কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী অংশীজন। এছাড়া দাতা সংস্থা থেকে ইউএন উইমেনের রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলী সিং, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) হ্যারি থমসন ও কানাডিয়ান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (ডেভেলপমেন্ট, জেন্ডার ইকুয়ালিটি) স্টেফানি সেন্ট লরেন্ট ব্রাজার্ড।

সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অধিবেশনের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। এতে সভা প্রধান ছিলেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

সারাদিনের এই সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন আলোচনায় রাজনীতিকদের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য লুনা নূর, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সম্পাদক ডা. হাবীবা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি)-র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন ও মানবাধিকার সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ইলিরা দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অধিবেশনে 'জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সম্পর্কিত অবস্থান' সংক্রান্ত সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক ও পরামর্শক সানাইয়া ফাহীম আনসারী। 'স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব' শীর্ষক দিনের প্রথম প্যানেল আলোচনায় বিষয় সংশ্লিষ্ট উপস্থাপনা করেন প্রতিকৃতি কমিউনিকেশনের টিম লিডার ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল্লাহ জাফর এবং দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনা 'নারীর প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতা'র বিষয়ে উপস্থাপনা করেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কনসালটেন্ট ইফফাত জাহান অন্তরা।

সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বিকাশ নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনসহ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সর্বোপরি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। এই প্রচেষ্টা সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। —সংবাদ বিজ্ঞপ্তি