ভারত, শ্রীলংকা, মালাবি ও বাংলাদেশে ব্ল্যাক টি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়লেও বৈশ্বিক উৎপাদন সামান্য কমেছে। কেনিয়ায় চা উৎপাদন কমে যাওয়ায় চলতি বছর বৈশিক মোট উৎপাদনে এমন প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।

বৈশ্বিক চায়ের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল টি ডাইজেস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক ব্ল্যাক টি উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার কেজিতে। ২০২০ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার কেজি। সে হিসেবে চলতি বছর পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন দশমিক ২০ শতাংশ কমেছে।

চা উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থান কেনিয়ার। তবে ২০২০ সালের তুলনায় চলতি বছর দেশটিতে চা উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে। এখন পর্যন্ত চলতি বছর কেনিয়ার চা উৎপাদনের মোট পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার কেজিতে। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার কেজি। সে হিসেবে দেশটিতে চা উৎপাদন কমেছে ১ কোটি ৫৬ লাখ কেজি, যার হার ছিল ১০ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, কেনিয়ার এ উৎপাদন ঘাটতি বৈশ্বিক উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে যথেষ্ট। কারণ এরই মধ্যে চা উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান করে নিয়েছে দেশটি।

এদিকে ভারতের চা উৎপাদন ৩ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার কেজিতে। ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ হারে দেশটিতে চা উৎপাদন বেড়েছে ২৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি।

গ্লোবাল টি ডাইজেস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চা উৎপাদক দেশের তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা শ্রীলংকার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর দেশটির চা উৎপাদন বেড়েছে ৫৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি। আর মোট চা উৎপাদন ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৩০ হাজার কেজিতে পৌঁছেছে।

মালাবির চা উৎপাদন ২ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ২২ লাখ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে দেশটির চা উৎপাদন বেড়েছে ১৬ লাখ কেজি।

বিশ্লেষকদের মতে, চা উৎপাদনে কেনিয়ার একটি বড় অবদান থাকায় পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক ঘাটতি পূরণে অপর্যাপ্ত ছিল বাকি দেশগুলোর উৎপাদন।