বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) পর্যন্ত উত্তোলন কমানোর নীতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। বছরের শেষ প্রান্তিক নাগাদ জোটটি উত্তোলন কমাতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রুশ পরিশোধনাগারে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এছাড়া লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানিটির বাণিজ্যপ্রবাহ লম্বা সময় ধরেই ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে সংকোচনের মধ্য দিয়ে যাবে পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে আইএনজি গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চ।
আইএনজি গ্লোবালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে বেড়ে ৮৭ ডলারে উন্নীত হতে পারে। তৃতীয় প্রান্তিকে ৮২ থেকে বেড়ে পৌঁছতে পারে ৮৮ ডলারে। আরো অনেক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কাছাকাছি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান দুদিন আগে জানায়, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়ার পরিশোধনাগারগুলোর নয় লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৪ ডলার করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্টোনেক্স এনার্জির বিশ্লেষক এলেক্স হোডস জানান, রুশ পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় এ হামলার কারণে পেট্রোলিয়ামের বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক সাড়ে তিন লাখ ব্যারেল করে কমে যেতে পারে। ফলে ব্যারেলপ্রতি দাম বাড়তে পারে ৩ ডলার করে।
জ্বালানি তেলের বাজারদরে উত্থান-পতন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহারের সঙ্গে0ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুদহার কমানো হলে বিল ও বন্ডসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজের চাহিদা কমে যায়। এ সময় জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের মতো পণ্যগুলোর কদর বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে দাম। আইএনজি গ্লোবাল জানায়, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত ফিউচারস মার্কেটে জ্বালানি তেলে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে লম্বা সময় ধরেই উত্তোলন কমাচ্ছে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো। সর্বশেষ গত নভেম্বরে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তোলন কমানোর নীতি থেকে সরে আসার কথা ছিল জোটটির। তবে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জোটের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ উত্তোলন কমানোর সময়সীমা বাড়াতে পারে ওপেক প্লাস।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, এ বছর জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাড়তে পারে। মূলত লোহিত সাগর দিয়ে পণ্যটির বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সংস্থাটি জ্বালানি তেলের চাহিদা পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। এতে আগের মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদা দৈনিক ১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চাহিদা দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল করে বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এছাড়া সপ্তাহজুড়ে পণ্যটির বাজারদর অপরিবর্তিত ছিল।
আইসিই ফিউচারস ইউরোপে মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৩৫ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ৪৩ সেন্টে নেমেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৪৪ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি লেনদেন হয়েছে ৮০ ডলার ৬৩ সেন্টে।










