চীনের বাজারে বাড়লেও চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের দাম নিম্নমুখী থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মূল্যস্ফীতির চাপ, ধারাবাহিক সুদহার বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাসহ নানা কারণে বছরজুড়ে ধাতুটির চাহিদা থাকবে কম। বিপরীতে বাড়তে পারে উৎপাদন। বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের গবেষণা ইউনিট বিএমআই সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে।
বিএমআই চলতি বছরে ধাতুটির বৈশ্বিক মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। আগে টনপ্রতি ৭৮০ ডলারের পূর্বাভাস দেয়া হলেও সম্প্রতি তা কমিয়ে ৭৪০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বছরের শুরুতে প্রত্যাশার চেয়েও কম দামে লেনদেন হয়েছে ধাতুটি। তবে কয়েক মাসের মধ্যে এ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক ও ব্যবহারকারী। ২০২২ সাল ও গত বছরের শুরুর দিকে দেশটিতে ইস্পাতের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। প্রপার্টি খাতে ব্যাপক অস্থিরতায় ওই সময় দেশটিতে অবকাঠামো নির্মাণ কমে যায়। ফলে এ খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ইস্পাতের চাহিদায়ও ভাটা পড়ে। তবে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। দেশটির সরকার অর্থনীতিকে গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ নেয়। প্রপার্টি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও জোর দেয়া হয়। ফলে বাড়তে শুরু করে ধাতুটির চাহিদা ও দাম, যা বৈশ্বিক বাজারকেও ঊর্ধ্বমুখী করে তোলে।
তবে এ বছর চীনে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও তা বৈশ্বিক দামে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারবে না বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ বছর চীন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য বড় বাজারে ইস্পাতের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় ধাতুটির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। এসব অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ, ক্রমবর্ধমান সুদহার এবং সম্ভাব্য মন্দার আশঙ্কায় ইস্পাতের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাছাড়া এখানকার গাড়ি নির্মাণ শিল্পেও ধাতুটির চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার থাকবে শ্লথ।
এদিকে অনেক বাজার পর্যবেক্ষক বলছেন, চীনের প্রপার্টি খাতে পুনরুদ্ধারে নানা পদক্ষেপ নিলেও খাতটি এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে দেশটিতে দাম কিছুটা বাড়লেও তা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া দেশটির অর্থনীতির গতি ও শিল্প উৎপাদনও এখনো শ্লথ। এসব খাতেও ইস্পাতের চাহিদা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে।
বিএমআই জানায়, সংকুচিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতে আরো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও শিগগিরই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এসব কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি বছরজুড়ে বড় ধরনের চাপের মুখে থাকতে পারে, যা ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা ও দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইস্পাতের বৈশ্বিক সরবরাহ ও উৎপাদনে পুনরুদ্ধারের আভাস দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিএমআই। এটি জানায়, বর্তমানে ইস্পাত উৎপাদন কমিয়ে দেয়ার কঠোর নীতি শিথিল করেছে চীন সরকার। ফলে দেশটির কারখানাগুলো উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ভারতসহ অন্য শীর্ষ বাজারগুলোয়ও বাড়ছে উৎপাদন।
বাজার পর্যবেক্ষকরা জানান, চীনের রফতানি ও গাড়ি নির্মাণ খাতে ব্যবহার ধাতুটির চাহিদা কিছুটা বাড়াতে পারে। ভারতেরও চাঙ্গা থাকতে পারে চাহিদা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বমুখী সুদহারের কারণে চাহিদা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।










