মহামারীর শুরু থেকেই বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিলের পর ক্রমবর্ধমান চাহিদা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সরবরাহ চেইন। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম। যুক্তরাষ্ট্রে চার দশকের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে মূল্যস্ফীতি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়াচ্ছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অবস্থায় খরচে লাগাম টানছেন মিলেনিয়াল প্রজন্মের ধনকুবেররা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির একটি জরিপ অনুসারে, মিলেনিয়াল মিলিয়নেয়াররা সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে সাময়িকভাবে বড় কেনাকাটা এড়িয়ে চলছেন। মিলেনিয়াল প্রজন্মের ধনকুবেরদের প্রায় অর্ধেক উচ্চ সুদহারের কারণে গাড়ি কিনতে দেরি করার কথা জানিয়েছেন। ৪৪ শতাংশ বলেছেন, ঋণের উচ্চব্যয়ের কারণে তারা বাড়ি কিনতে আরো সময় নিচ্ছেন। এক-তৃতীয়াংশের বেশি ধনকুবের উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে ট্রিপ কিংবা অবকাশ যাপনের পরিকল্পনা বিলম্বিত করছেন।

১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের ওপর সিএনবিসি মিলিয়নেয়ার সার্ভে পরিচালিত হয়েছে। সমীক্ষায় ১৯৮২ সালের পর জন্মগ্রহণকারী উত্তরদাতাদের মিলেনিয়াল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের বেবি বুমারস প্রজন্ম হিসেবে ধরা হয়েছে।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান ঋণের ব্যয় ধনী ভোক্তাদেরও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক করে তুলেছে। যদিও উচ্চমূল্যস্ফীতি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সুদের হার ধনী ও অল্প বয়স্ক গ্রাহকদের বিশেষ করে বড় ধরনের ব্যয় এড়াতে চাপ দেয়া শুরু করেছে।

সমীক্ষা অনুসারে, মিলেনিয়ালরা তাদের বেবি বুমারস সমকক্ষদের তুলনায় তিন গুণ বেশি বড় ব্যয় এড়িয়ে চলতে পারে। সিএনবিসির সঙ্গে জরিপ পরিচালনা করা স্পেকট্রাম গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়ালপার বলেন, মিলেনিয়াল ধনকুবেররা স্পষ্টতই এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যা তারা কখনই অনুভব করেননি। এজন্য তারা তাদের আচরণ ও ব্যয় পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন।

মূল্যস্ফীতি বিলাসবহুল জিনিসপত্র যেমন বাড়ির বাইরে রাতের খাবার গ্রহণ, উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল এবং এমনকি নির্দিষ্ট কিছু মাসিক সাবস্ক্রিপশনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সমীক্ষা অনুসারে, মিলিনেয়াল প্রজন্মের ৩৯ শতাংশ ধনকুবের উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে বাড়ির বাইরে খাবার-খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ৩৬ শতাংশ ধনকুবের অবকাশ যাপন বন্ধ এবং ২২ শতাংশ ভ্রমণ কমিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর কারণে ঋণ নেয়ার খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে বাড়ি ও গাড়ি কেনার খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। আগামী মাসে সুদের হার আরেকবার বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া মিলেনিয়াল মিলিয়নেয়ারদের দুই-তৃতীয়াংশ বলেছেন, বর্তমানে উচ্চ সুদহারের কারণে গত এক বছরের তুলনায় তাদের ঋণ নেয়ার সম্ভাবনা কম। বেবি বুমারসদের ক্ষেত্রে এমন বলার হার মাত্র ৪০ শতাংশ। মিলেনিয়াল উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ উচ্চহারের কারণে নতুন বাড়ি কিনতে বিলম্ব করার কথা জানিয়েছেন। যেখানে এমন বিলম্বের কথা জানিয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ বেবি বুমারস প্রজন্মের ধনকুবের। মিলেনিয়াল মিলিয়নেয়ারদের প্রায় অর্ধেক উচ্চ সুদহারের কারণে গাড়ি কিনতে সময় নিচ্ছেন। এ হার বেবি বুমারসদের দ্বিগুণেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি ও গাড়ি উভয়ের বিক্রি বৃদ্ধিতে বড় একটি ভূমিকা পালন করেন মিলেনিয়াল ধনকুবেররা।

ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ সুদের হার বাড়ানোর আগেই মে মাসে সিএনবিসি মিলিয়নেয়ার সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছিল। জরিপে প্রায় ৭৫০ জন উত্তরদাতা অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা তাদের পরিবারের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কিংবা পরিবারের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যৌথ অংশীদার।