চীনের প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোয় চলতি বছর অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া বিরাজ করায় ফসলহানির আশঙ্কা করা হয়েছিল। এমনকি জুন নাগাদ পরিপক্ব হওয়া গমের উৎপাদন হ্রাস ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত খাদ্যশস্যটির ওপর বিরূপ আবহাওয়ার তেমন প্রভাব পড়েনি। দেশটিতে চলতি মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন গমের উৎপাদন ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম উৎপাদক। ২০২৩ সালে অতিবৃষ্টির কারণে দেশটিতে গমের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এ বছর উৎপাদন বেড়ে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। আগের বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টন। 

ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যমতে, চলতি বছর গম চাষের জমি দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে প্রতি হেক্টরে গম উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। 

চীনের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে বেশির ভাগ গম উৎপাদন হয়। চলতি বছর এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। ফলে জুন নাগাদ পরিপক্ব হওয়া গমের গুণগত মান নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গম উৎপাদনে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। 

সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, গম উদ্ভিদের বেড়ে ওঠার সময় ভালো আবহাওয়ার উপস্থিতি উৎপাদন বেশি হওয়ার পেছনে অবদান রেখেছে। এছাড়া গরম আবহাওয়ার ন্যূনতম প্রভাব ও উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের আবাদও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সংস্থাটির রুরাল ডিভিশনের পরিচালক ওয়াং গুইরং বলেন, ‘এর বাইরে গমের ন্যূনতম ক্রয়মূল্য বেশি হওয়া ও অন্যান্য ভর্তুকি গমের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করেছে।’ 

প্রসঙ্গত, চীনের গ্রীষ্মকালীন শস্য উৎপাদনও আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর দেশটির ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টন শস্য উৎপাদন হয়েছে। তবে শস্য চাষের জমির পরিমাণ আগের বছর মতোই ১ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার হেক্টর রয়ে গেছে।