২০২২-২৩ মৌসুমে আর্জেন্টিনায় গম উৎপাদন কমার পূর্বাভাস মিলেছে। মূলত সম্ভাব্য শুষ্ক আবহাওয়া নিম্নমুখী উৎপাদনে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। রোজারিও গ্রেইনস এক্সচেঞ্জ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এক্সচেঞ্জ এক প্রক্ষেপণে জানায়, মৌসুম শেষে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে গম উৎপাদন কমে ১ কোটি ৯০ লাখ টনে নামতে পারে, যা ২০২১-২২ মৌসুমের রেকর্ড ২ কোটি ২১ লাখ টনের তুলনায় কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লা নিনার প্রভাবে আগামী মাসগুলোয় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আবাদি জমিগুলোয় আর্দ্রতার পরিমাণ গম উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

গম রফতানিতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় সরবরাহের দিক থেকে নেতৃস্থানীয় এ দেশ। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস জানায়, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে দেশটির রফতানি ১ কোটি ৪৫ লাখ রেকর্ড করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি রফতানিতে সপ্তম শীর্ষে উঠে আসতে পারে।

তথ্য বলছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে গমের বৈশ্বিক সরবরাহ অব্যাহতভাবে কমছে। বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে এ দুই দেশ থেকে। এর পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নমুখী উৎপাদনও সরবরাহ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইউএসডিএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে গমের বৈশ্বিক মজুদ কমে ২৭ কোটি ৮০ লাখ টনে নামবে, যা ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর সর্বনিম্ন।

রোজারিও গ্রেইনস এক্সচেঞ্জ বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে আর্জেন্টিনার ৬৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে গম আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মৌসুমের তুলনায় ৫ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ কমবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জন্য খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। উৎপাদন গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১ শতাংশ কমতে পারে। সম্প্রতি সরবরাহ ও চাহিদাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

আইজিসি বলছে, চলতি বছর খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন ২২৫ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুম শেষে খাদ্যশস্যের মজুদ কমে ৫৭ কোটি ৯৬ লাখ টনে নামতে পারে। গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় মজুদ দশমিক ২৬ শতাংশ কমবে।

বিশ্লেষকরা জানান, খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে গম ও ভুট্টা। শস্য দুটির উৎপাদন কমছে আশঙ্কাজনক হারে।