চীনে কভিড-১৯ প্রতিরোধে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কয়লার সরবরাহ যেমন কমছে, ঠিক তেমনি বাড়ছে জ্বালানিটির দাম। শিল্পসংশ্লিষ্ট ও ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি কয়লা ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে জ্বালানিটির চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় দেশটিতে কয়লা বাণিজ্য ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দেশটি কয়লা ব্যবহার কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ব্যবহার কমানোর পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে। বিশেষ করে চীনের উত্তরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি শীত পড়ায় অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে চলতি বছর কয়লার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। গত বছর কয়লা সংকটের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছিল। এ বছর সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না দেশটি।
তবে দেশটির প্রধান কয়লা উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় কভিড সংক্রমণের মাত্রা ব্যাপক বেড়েছে। এ কারণেও কয়লা বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মাসে সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে পণ্য পরিবহনে। ফলে অনেক খনি কয়লা জাহাজীকরণ করতে পারেনি। অনেকে লোকসানের আশঙ্কায় উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ উত্তোলন বন্ধও করে দিয়েছে।
ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের ২৭ শতাংশ কয়লাই আসে ঝুংজির কাউন্টি থেকে। কিন্তু গত ১৯ অক্টোবর থেকে কভিড সংক্রমণের কারণে এ অঞ্চলের সবাইকে বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ইনার মঙ্গোলিয়ায় উহাই প্রদেশের দুটি খনি এরই মধ্যে উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে মাসব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে বন্ধ হয়ে আছে ডাকিন রেলওয়ে। এটি চীনের সবচেয়ে বড় কয়লা পরিবহন রুট। এছাড়া দেশটির প্রধান প্রধান বন্দরে কয়লার মজুদও নিম্নমুখী বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তিন বছরের মধ্যে ব্যাপক হারে কয়লা উত্তোলন বাড়াবে চীন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় চীনে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিতে দেশটির দায়ও সবচেয়ে বেশি। ২০৬০ সালের মধ্যে নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন। এ লক্ষ্যে দেশটি বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগও করেছে। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চীন সরকার আরো বেশি পরিমাণে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেয়। ফলে কমার পরিবর্তে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে কার্বন নিঃসরণ আরো তীব্র গতিতে বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










