সমাপ্ত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ভুট্টা রফতানি কমে তলানিতে নেমেছে। স্থানীয় পোলট্রি ও ইথানল ইন্ডাস্ট্রিতে বলিষ্ঠ চাহিদার কারণে শস্যটির দাম ব্যাপক বেড়েছে। এ কারণে আমদানিকারকদের কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারতীয় ভুট্টা অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটা জানিয়েছেন দেশটির রফতানিকারকরা।

ডিলাররা বলছেন, ভারত প্রতি মাসে সাধারণত আড়াই-তিন লাখ টন ভুট্টা রফতানি করে। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে রফতানি কমে ৩০ হাজার টনে নেমে যায়। এর মধ্য দিয়ে রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

ভারতীয় ভুট্টার প্রচলিত ক্রেতা বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলংকা। এসব দেশ বর্তমানে ভুট্টা আমদানিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কারণ ভারতীয় ভুট্টার তুলনায় কম দামে মিলছে ওইসব দেশের ভুট্টা।

ওলাম এগ্রি ইন্ডিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতিন গুপ্ত বলেন, ‘‌ভারতের ভুট্টা রফতানি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। স্থানীয় বাজারে পোলট্রি ও ইথানল উৎপাদকদের কাছে শস্যটির ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। ফলে দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’

ডিলাররা জানান, ভারত ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে প্রতি টন ভুট্টা রফতানি করছে ৩০০ ডলারে। সেখানে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে রফতানি হচ্ছে ২৩০ ডলার মূল্যে।

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশে খুবই স্বল্প পরিমাণ ভুট্টা রফতানি করছে ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভারত থেকে শস্যটির আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বলা যায়।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারত ২৩ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করেছে। ২০২২ সালে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৫ লাখ টন।