২০২৩-২৪ বিপণন বছরে আর্জেন্টিনায় সয়াবিন উৎপাদন প্রায় ১৫০ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং রোপণ মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় তেলবীজটির আবাদ বাড়িয়েছে দেশটির কৃষি বিভাগ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইন।
বিশ্বের শীর্ষ প্রক্রিয়াজাত সয়াবিন রফতানিকারক দেশ আর্জেন্টিনা। এছাড়া ভুট্টা ও গম সরবরাহেও অন্যতম লাতিন আমেরিকার দেশটি। তবে খরা ও রোপণের ক্ষেত্র কমে যাওয়ায় গত মৌসুমে দেশটির শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
২০২২-২৩ বিপণন বছরে ২ কোটি ৫ লাখ টনের তুলনায় এফএএস চলতি মৌসুমে ৫ কোটি ৫ লাখ টন উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। মার্কিন সংস্থাটি গত বছর রফতানি কমে যাওয়া এবং কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন মাড়াইয়ের কারণে সয়াবিন মাড়াইয়ের পূর্বাভাস কমিয়ে ২ কোটি ৬০ লাখ টনে নামিয়ে এনেছে । চলতি বছরের তেলবীজটির মাড়াই মোট চার কোটি টনে উঠতে দেখা গেছে। পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে চলতি মৌসুমে ২০১৮-১৯ সালের পর সবচেয়ে বেশি সয়াবিন উৎপাদন হবে। যখন দেশে ৫ কোটি ৫৮ লাখ টন তৈলবীজ উৎপাদিত হয়েছিল।
২০২৩-২৪ সালের ফসল সম্পর্কে এফএএস জানায়, এল নিনো আবহাওয়া ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশের সবচেয়ে খারাপ খরার অবসান ঘটিয়েছে। নভেম্বরে শুরু হওয়া ও ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রধান উৎপাদনশীল অঞ্চলে গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এফএএস। সংস্থাটি তার সয়াবিন রোপণ করা জমির পূর্বাভাসে আট লাখ হেক্টর জমির কথা বললেও তা সংশোধন করে ১ কোটি ৭২ লাখ হেক্টরে উন্নীত করেছে। এফএএস আরো জানায়, আবহাওয়ার উন্নতি ও নতুন সরকারের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তনের কারণে এ বৃদ্ধি হয়েছে, যা রফতানিকেও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি ২০২৩-২৪ সালে রফতানির পরিমাণ ৬০ লাখ টন নির্ধারণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ বেশি। দেশব্যাপী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৯ শতাংশ ভুট্টা রোপণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এফএএস জানায়, কিছু শিল্প বিশ্লেষক আশা করছেন, চলতি বছর ফসল উৎপাদন প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ টন হবে।










