আগামী বছর থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তামার বৈশ্বিক উত্তোলন বার্ষিক গড় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাড়বে। একই সময় ব্যবহারিক ধাতুটির মোট উত্তোলন ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৭৮ লাখ টনে উন্নীত হবে। মার্কিন ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর মাইনিংডটকম।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, অসংখ্য নতুন প্রকল্প অনলাইনে আসার কারণে তামার বাড়তি চাহিদা দেখা দিয়েছে, যে কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে লাল ধাতুটির উত্তোলন বার্ষিক ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হারে প্রসারিত হবে। যদিও কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে চলতি বছর তামা উত্তোলন কিছুটা কমেছে।
আগামী এক দশকে তামা উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে চিলি। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে দেশটিতে বিএইচপির ‘স্পেন্স গ্রোথ অপশন’
প্রকল্প প্রথম ধাতুটির উত্তোলন শুরু করবে। বিএইচপির এ কার্যক্রম তামার বৈশ্বিক উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
চলমান কভিড-১৯ মহামারীর কারণে কর্মী সংকটে অনেক খনিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম তামা উত্তোলন হচ্ছে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে সিংহভাগ কর্মী এখন কাজে যোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহৎ তামার খনি এসকনদিদা মাইননের সিংহভাগ কর্মী এরই মধ্যে কাজে ফিরেছেন। অবশ্য বিএইচপি এরই মধ্যে জানিয়েছে, কর্মী বাহিনী ছোট হওয়ায় ২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত তাদের তামা উত্তোলন স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামা উত্তোলন খাতের কর্মীরা নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন। শিগগিরই ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক গড়ে ১ হাজার ২০০ কিলোটন তামা উত্তোলনের প্রত্যাশা করছে। যদিও উত্তোলন পরিমাণের অংক নির্ভর করছে বিএইচপির স্পেন্স গ্রোথ অপশন প্রকল্পের উৎপাদ শুরু এবং কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ উত্তোলনে যাবে তার ওপর। পূর্বাভাসে লনডিন মাইনিংয়ের উত্তোলনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে টানাপড়েনের কারণে টানা কয়েক মাস ধরে খারাপ সময় পার করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শিগগিরই জটিলতা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তামা উত্তোলনে ফিরবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে ক্যান্ডেলারিয়ায় লনডিন প্রকল্পের তামা উত্তোলন ১৮৫ থেকে ১৯৫ কিলোটনের মধ্যে থাকবে, যা গত বছরের ১৪২ কিলোটনের চেয়ে বেশি।
ফিচ সলিউশনের দাবি, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে নতুন তামা উত্তোলন প্রকল্প উন্নয়ন পাঁচ-ছয় মাস বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অনেক নতুন প্রকল্প কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে, যে কারণে খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী পাঁচ বছর গড়ে ২৮৬ কিলোটনে পৌঁছানোর আশা করছে।










