ভারতকে রফতানি হাবে পরিণত করতে চায় বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতারা। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা স্থানে রফতানির জন্য স্বল্প নির্মাণ ব্যয়ের দেশ ভারতকে বেছে নিচ্ছেন তারা। এর মধ্য দিয়ে ‘‌ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ মডেল বা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতকে বিবেচনা করতে উৎসাহিত হবেন ব্যবসায়ীরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

এরই মধ্যে জাপানকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ির বাজার হয়ে উঠেছে। একদিকে ভারতের গ্রাহকরা দামি গাড়ি বেছে নিচ্ছেন, অন্যদিকে নির্মাতারাও ভারতের বাজারকে মাথায় রেখে গাড়ি তৈরি করছে। নিসান ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক টরেস বলেছেন, ‘‌জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারকরা ভারতকে রফতানি কেন্দ্র‌ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’‌

নিসান বর্তমানে ম্যাগনাইট স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি রফতানি করছে। পরিকল্পনা করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় এসইউভির বাম হাত চালিত ভেরিয়েন্ট চালু করবে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়িসহ ছয়টি নতুন গাড়ি বাজারে আনতে নিসান ও তার অংশীদার রেঁনো চলতি বছর ৬০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে। যা ২০২৫ সালে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। রফতানি করা হবে গাড়িগুলো। টরেস বলেছেন, ‘‌ভারত থেকে রফতানি আমাদের কৌশলের অন্যতম ভিত্তি। এটি শুধু রাজস্বই বাড়াবে না, আমাদের উৎপাদন সক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তুলবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ছোট ও সস্তা গাড়ি থেকে উচ্চ মানের গাড়িতে স্থানীয় চাহিদার স্থানান্তর অন্যান্য বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতার আরো ‘‌ভারত-ফার্স্ট’‌ মডেলের পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করতে পারে, যা মূলত রফতানিকে টার্গেট করে গড়ে উঠবে। নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের স্বয়ংচালিত রিটেইল প্র্যাকটিসের প্রধান হর্ষবর্ধন শর্মা বলেছেন, ‘‌গাড়ি নির্মাতারা এটা বুঝতে পেরেছেন যে আপনি যদি একটি ভালো মানের আকর্ষণীয় পণ্য তৈরি করেন, তবে ভারতীয়রা সে পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। উৎপাদকদের ভারতের জন্য একটি ট্র্যাক ও বিশ্ব বাজারের জন্য অন্য দুটি ট্র্যাক তৈরির পরিকল্পনা করার দরকার নেই। কারণ ভারতীয় বাজারটি বিশ্ববাজারের সঙ্গে বেশ সুসংগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

রফতানিমুখী কার্যক্রমের জন্য ভারতের কম দামি গাড়ি আরেকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ। স্কোডা অটো ফক্সওয়াগনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পীযূষ অরোরা নিক্কেই এশিয়াকে বলেছেন, ‘‌ভারতের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণ পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিবে।’ অরোরা বলেছেন, ‘‌ভারত থেকে রপ্তানির জন্য আমরা অবশ্যই নতুন বাজার খুঁজছি। গত বছর পর্যন্ত আমরা শুধু ভক্সওয়াগেন ব্র্যান্ডের গাড়ি রপ্তানি করতাম। এখন আমরা স্কোডা ব্র্যান্ডের গাড়িগুলিও মধ্যপ্রাচ্যে দেখতে শুরু করেছি।’

আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি, অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে খরচ কম হবে এবং এখান থেকে রফতানির ক্ষেত্রেও খরচ তুলনামূলক কম পড়বে। কম খরচে ভারতে পণ্য উৎপাদনের সুবিধা ও সম্ভাবনা অবশ্যই কাজে লাগবে। ভারতে স্থানীয় উপাদান সরবরাহকারীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও তুলনামূলকভাবে সস্তা শ্রম রয়েছে। অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া আগস্টের শুরুতে এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২৩ অর্থবছরে গাড়ির পার্টস সেক্টর প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।