বৈশ্বিক বাজারে তামার দরপতন যেন কাটছেই না। এবার যুক্তরাষ্ট্রের আগস্টের ভোক্তা মূল্য তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর আরো এক দফা দরপতন দেখল শিল্প ধাতুটি। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক বছরের মধ্যে ভোক্তা মূল্য সর্বোচ্চে ওঠায় শিগগিরই সুদহার কমাচ্ছে না ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। ফলে ডলার আরো শক্তিশালী হওয়ার আভাসে দাম কমেছে তামার। খবর রয়টার্স।
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) বুধবার তিন মাস সরবরাহ চুক্তিতে তামার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৮ হাজার ৩৭১ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, গত মাসে মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনের পর থেকে সূচকটির রেকর্ড বৃদ্ধির খবর এটি। দুই মাস ধরেই সিপিআই দশমিক ২ শতাংশ হারে বেড়েছে।
সিপিআই ঊর্ধ্বমুখী হলে শিগগিরই সুদহার কমাবে না ফেড। অন্যদিকে, সুদহার আরো বাড়ানো হলে তামার দাম আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা ডলারের দাম বেশি থাকলে অন্য মুদ্রার বিপরীতে তামার ক্রয় =খরচ বাড়বে। ফলে চাহিদা কমবে ধাতুটির।
ম্যারেক্সের সিনিয়র বেস মেটাল বিশেষজ্ঞ অ্যালিস্টার মুনরো বলেছেন, ‘শিল্প ধাতুটির দাম চীনা ইউয়ানের বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হওয়াসহ আরো বেশকিছু কারণের ওপর নির্ভর করছে।’
বিশ্বের শীর্ষ তামা ব্যবহারকারী দেশ চীনে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা দশা ও দেশটির আবাসন খাতে চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে গেছে ধাতুটির। বেইজিং আবাসন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে নানা পদক্ষেপ নিলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। ফলে কয়েক মাস ধরেই তামার বাজারে চাহিদা সংকট দেখা দিয়েছে।
চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, আগস্টে চীনের তামা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় অ্যানোড, অ্যালয়, আধা পরিশোধিতসহ সব ধরনের তামা আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৮৮ দশমিক ৬০ টনে। গত বছরের একই সময় আমদানি করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৭ দশমিক ১০ টন। অন্যদিকে, এক মাসের ব্যবধানে চীনের তামার আমদানি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৩ টন। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীন সব মিলিয়ে ৩৯ লাখ টন তামা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।










