প্রায় দুই বছরের বাণিজ্য ঘাটতির পর উদ্বৃত্তে ফিরেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাকি বিশ্বের সঙ্গে ব্লকটির বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তের আকার ১০০ কোটি ইউরোয় দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের আমদানি ব্যয় সংকোচন এবং উৎপাদিত রাসায়নিক পণ্য, গাড়ি, খাদ্যের রফতানি বৃদ্ধি অঞ্চলটির এ উদ্বৃত্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে ইউরোস্ট্যাটের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর ইউরো নিউজ।
প্রতিবেদন অনুসারে, টানা ছয় প্রান্তিক ইইউ বাণিজ্য ঘাটতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিল। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোর আমদানি খাতে। অত্যধিক মূল্যের চাপেই বাণিজ্য ঘাটতি গুনতে হয়েছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মেশনারি সামগ্রী, গাড়ি, খাদ্য, পানীয় ও রাসায়নিক পণ্যের রফতানি আয় আমদানি ব্যয়ের ক্ষতকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
ইইউ ২০১০-এর দশকজুড়ে টানা উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। সে সময় ব্লকের সদস্যরা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় রফতানির দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে এ প্রবণতা দীর্ঘ হতে পারেনি। কারণ ইউক্রেন সংকটের মধ্য দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রশ্নে পরিবর্তন এসেছে পূর্বতন বাণিজ্যিক প্রবণতায়। ইইউ জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য প্রবলভাবে বিদেশী সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে দ্রুত সংবেদনশীলতা দেখায়। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দৃশ্যমান হয় প্রকটভাবে। ২০২১ সালের মাঝামাঝির পর থেকে ব্লকটি জ্বালানি সরবরাহে নিশ্চয়তা আনার জন্য বাণিজ্যে নীতিগত পরিবর্তন আনতেও বাধ্য হয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) অনুসারে, গত বছরে ইইউ ৪০ হাজার কোটি ডলার আমদানি করেছে। পুরো অর্থ ব্যয় করা হয়েছে রাশিয়ার সরবরাহকে প্রতিস্থাপন করার ক্ষেত্রে। রাশিয়ার সঙ্গে টানাপড়েনের জেরে নতুন বাণিজ্যি সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়ে ইইউর অর্থনীতিতে। ব্লকের জন্য একক মুদ্রা চালু হওয়ার পর এত বড় বাণিজ্যিক ঘাটতি আগে দেখেনি ইইউ। ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইইউর ২৭ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অবশ্য পরবর্তী সময়ে সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার থেকে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে শুরু করে।
কোনো দেশের বাণিজ্যের পরিমাণের ক্ষেত্রে আমদানি ও রফতানির হিস্যা দিয়ে তার ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত বের করা হয়। যখন কোনো দেশ বা কোনো অঞ্চল পণ্য আমদানির তুলনায় রফতানি বেশি করে, তখন তাকে তার বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে যখন কোনো দেশ বা ভৌগোলিক অঞ্চলের আমদানির পরিমাণ রফতানিকে ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে বাণিজ্যিক ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থনীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে একে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
ইইউ এখন জ্বালানি তেল ও গ্যাস বাবদ ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে। তার প্রভাব পড়েছে সার্বিক সূচকে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইইউ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ জ্বালানি আমদানি বাবদ ব্যয় সংকোচন করেছে। ইউরোস্ট্যাট অনুসারে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইইউর রফতানি আমদানি যথাক্রমে কমেছে ২ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা দীর্ঘ বাণিজ্যিক ঘাটতির পর উত্তরণকে নির্দেশ করে। ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।










