চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) লোকসান গুনেছে। কভিড-১৯ মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে কোম্পানিগুলো। খবর রয়টার্স। 

চীনের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন কোম্পানি এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ বার্ষিক নিট মুনাফা অর্জনের কথা জানিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক রুটে ভ্রমণের চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমে এসেছে। 

চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস গত বছরের প্রথমার্ধে ৬২০ কোটি ইউয়ান লোকসান করেছিল। চলতি বছরও লোকসানের ধারা অব্যাহত রাখে বিমান সংস্থাটি। চলতি বছরের প্রথমার্ধে লোকসানের পরিমাণ ২৮০ কোটি ইউয়ান (৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার)। 

বিমান সংস্থাটি জানায়, অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছু আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী চলাচলও স্বাভাবিক হয়নি। তাছাড়া উচ্চগতির রেলে ভ্রমণ সহজ হওয়ায় গত বছরের তুলনায় টিকিটের দাম কমে গেছে।

এদিকে বছরের প্রথমার্ধে ২৭৮ কোটি ইউয়ান নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে এয়ার চায়না। গত বছরের একই সময় লোকসান হয়েছিল ৩৪৫ কোটি ইউয়ান। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের প্রথমার্ধে নিট লোকসানের পরিমাণ ১২৩ কোটি ইউয়ান, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৯০ কোটি ইউয়ান। তবে কোম্পানিটি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৭৬ কোটি ইউয়ান মুনাফার কথা জানিয়েছে। 

এয়ার চায়না বলেছে, বছরের প্রথমার্ধে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে, যা ২০১৯ সালে মহামারীপূর্ব অবস্থার ৮০ শতাংশের বেশি। কিন্তু উত্তর আমেরিকার রুটে আশানুরূপ যাত্রী এখনো বাড়েনি। 

সিরিয়াম ও চীনভিত্তিক এভিয়েশন ডাটা সরবরাহকারী ভ্যারিফ্লাইট অনুসারে, রাজনৈতিক কারণে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরিচালিত ফ্লাইট বেশ কম। মহামারীপূর্ব অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় বর্তমানে ২০ শতাংশ যাত্রী চলাচল করছে। 

এয়ার চায়না বলেছে, আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন পুরোদমে এখনো চালু না হওয়ায় বেশি সিটের উড়োজাহাজ অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মরামারী সম্পর্কিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়ার পর ২০২৩ সালে চীন থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে অর্থনৈতিক নড়বড়ে অবস্থার কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী চলাচল আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। বরং অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী চলাচল বেড়েছে। 

এভিয়েশন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাইয়ে ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় চীন থেকে ২৩ শতাংশ কম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেশি ছিল।