এ সম্প্রসারণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে জন-অসন্তোষও বাড়ছে। গতকাল দেশটির অন্তত ১২৫টি স্থানে ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটিই এআই অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে প্রথম জাতীয় সমন্বিত বিক্ষোভ। খবর রয়টার্স।

বিক্ষোভের আয়োজন করেছে হিউম্যানসফার্স্ট নামে একটি সংগঠন। অভিযোগ, যথাযথ জবাবদিহি ও জনমত বিবেচনা না করেই বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের আপত্তি সত্ত্বেও প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। কোথাও কোথাও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন রাখতে ডেভেলপারদের সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তিও করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, বড় আকারের ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন। ফলে বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে, পানিসম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়বে। এসব কারণেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আন্দোলন জোরালো হচ্ছে।

রয়টার্সের জুনের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বর্তমান গতিকে সমর্থন করেন কেবল এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক।

হিউম্যানসফার্স্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যামি ক্রেমার বলেন, ‘ডেটা সেন্টার-বিরোধী আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। অনেক মানুষ হঠাৎ জানতে পারছেন, তাদের এলাকায় বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ হবে। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের মতামত নেয়া হয়নি।’

আয়োজকদের দাবি, তারা ডেটা সেন্টার নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করতে চান না। বরং প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা, স্থানীয় মানুষের জন্য ভালো কর্মসংস্থান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে একটি প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টার বছরে প্রায় ২৬ কোটি গ্যালন পানি ব্যবহার করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

আন্দোলনকারীদের মতে, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর জন্য বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাই ডেটা সেন্টার নির্মাণের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত ও পরিবেশগত প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।