নভেম্বরে ব্যাপক পতনের পর গতকাল ডলার আগের অবস্থানে ফিরেছে। অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার এক সপ্তাহের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন মার্কিন নিয়ন্ত্রকরা শিগগিরই বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) তৈরির অনুমোদন দিতে পারে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার কিছুটা বেড়ে ১৪৭ দশমিক ২৩ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। টোকিওতে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার পরে এটি ঘটেছিল। ফলে ইয়েনের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

মুদ্রাবাজারে ১ ডলার ৮ সেন্টে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছিল ইউরো। তখন ডলার সূচক ১০৩-এর ওপরে ছিল, যা এক সপ্তাহ ধরে ওপরে ছিল।

বিশ্লেষকরা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ব্যাপক বিক্রয়ের কারণে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। পতন থেকে পুনরুদ্ধার হয়েছে। ফলে নভেম্বরে ডলার সূচক প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে, যা এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে পরিষেবা ডাটা ও কর্মসংস্থানের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত। এ দুটি প্রতিবেদনের তথ্য ও অন্যান্য তথ্য থেকে ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদহার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ফেড ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে সুদহার হ্রাস করবে। সুদহারের পরিবর্তন অনেকাংশে অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের চেয়ে প্রাপ্ত ডাটা ও মূল্যস্ফীতির হারের ওপর নির্ভর করবে।

পাউন্ডের বিনিময় হার কিছুটা বেড়ে ১ ডলার ২৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ডলারও চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ থেকে নেমে এসেছে। এর সর্বশেষ বিনিময় হার ছিল দশমিক ৬১ সেন্ট। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলার তার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশিত হার ধরে রাখার ফলে স্থিতিশীল ছিল।

প্রতিটি বিটকয়েন ৪১ হাজার ৮৭৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন সুদহার হ্রাস এবং সম্ভাব্য নতুন বিটকয়েন বিনিয়োগের আশায় এর বিনিময় হার চলতি বছর ১৫৩ শতাংশ বেড়েছে। অনুমোদিত হলে এটি আরো বিনিয়োগকারী পেতে পারে। অক্টোবরের শেষের দিকে বিটকয়েন ৩০ হাজার ডলার অতিক্রম করার পর থেকে ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছনোর কাছাকাছি রয়েছে।