বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্রাজিলে সয়াবিন আবাদ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রতিকূলতার কারণে বড়সংখ্যক কৃষক আবাদ থেকে বিরত আছেন। যারা আবাদ করছেন, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে তাদের ফসলও নষ্ট হতে চলেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস চলতি বিপণন মৌসুমে দেশটির সয়াবিন আবাদি জমির পরিমাণ কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ফলে মৌসুম শেষে উৎপাদন কমবে।
এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ব্রাজিলে সয়াবিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে ৪ কোটি ৪ লাখ টনে নামতে পারে। উৎপাদন দাঁড়াবে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টনে।
সম্প্রতি ইউএসডিএ কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের কিছু প্রদেশে এখনো খরার ভয়াবহতা রয়ে গেছে। আবার কিছু রাজ্যে অতিবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। এ কারণে যথাসময় সয়াবিন আবাদ সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মৌসুমে ব্রাজিলে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উপযুক্ত সময়ের মধ্যেই সয়াবিন আবাদ সম্ভব হয়েছিল। ফলে উৎপাদন প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়। এ মৌসুমেও রেকর্ড উৎপাদনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু আবহাওয়ায় বৈরী ভাব অব্যাহত থাকলে তা সম্ভব হবে না।
এদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় কমানো হয়েছে রফতানি পূর্বাভাসও। ইউএসডিএ জানায়, চলতি মৌসুমে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানি আগের মৌসুমের তুলনায় কমে ৮ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। আগের মৌসুমে রেকর্ড ৮ কোটি ৮৫ লাখ টন রফতানি হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৪ কোটি ৬০ লাখ টন সয়াবিন মাড়াই করার সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মৌসুমে মাড়াইয়ের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৬৫ লাখ টন। মূলত স্থানীয় বাজারে সয়াবিন তেলের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণেই মাড়াই কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। তবে সয়াবিন থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন ১০ শতাংশ কমতে পারে।










