আসন্ন রমজান সামনে রেখে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে নিতাইগঞ্জের চিনির বাজার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে চিনির কাঁচামালের ওপর থেকে টনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও সে প্রভাব পড়েনি নারায়ণগঞ্জের চিনির বাজারে। এক সপ্তাহ ধরে বাজারে চিনি বেচাকেনা হচ্ছে ১৩৫-১৩৬ টাকা কেজি দরে। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে মিল থেকেও। তার পরও বাজারে চিনির দাম কেন বাড়ছে, তার সদুত্তর দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, নিতাইগঞ্জে পাইকারিতে চিনি বেচাকেনা হচ্ছে ১৩৫-১৩৬ টাকা কেজি দরে। তবে ভিন্ন কথা বলছেন পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানিরা। তাদের দাবি, নিতাইগঞ্জ থেকে পাইকারিতেই তাদের চিনি কেনা পড়ছে ১৪০-১৪২ টাকা কেজি। এক বস্তা চিনি ক্রয় করে মহল্লার দোকানে নিয়ে আসতে রিকশাভাড়া, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ, কর্মচারী খরচের পাশাপাশি প্রতি বস্তায় প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি চিনি ঘাটতি হয়। সব কিছু মিলিয়ে ১৫০ টাকা কেজির নিচে বিক্রি করলে তাদের মুনাফা থাকে না।
নিতাইগঞ্জে চিনি ব্যবসায়ী দিলীপ সাহা জানান, পাইকারি বাজারে চিনি বেচাকেনা হচ্ছে ১৩৫-১৩৬ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার চিনির দাম কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছিল। কিন্তু শনিবার থেকে আবার দাম কমে এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চিনির কাঁচামালের ওপর টনপ্রতি ১ হাজার টাকা শুল্ক প্রত্যাহার করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকার শুঙ্ক প্রত্যাহার করলেও মিল গেইট থেকে চিনির দাম কমেনি। সেই আগের দামেই চিনি বেচাকেনা করছে মিল থেকে। দেশে চিনি উৎপাদন করে মূলত বড় তিন-চারটি কোম্পানি। তাদের সবক’টি মিলেই কাঁচামাল পর্যাপ্ত রয়েছে। ফলে এবার রোজার সময় চিনির দাম বাড়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।’
নিতাইগঞ্জে আসহান উল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে চিনির সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী মিল থেকে সরবরাহ পাচ্ছি। মূলত মিল গেট থেকে যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, সে মূল্যেই ঢাকার ব্যবসায়ীরা চিনি কিনে নেন। নিতাইগঞ্জের বেশীর ভাগ ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে কিনে এনে কেজিতে ৫০ পয়সা বা ১ টাকা লাভে বেচাকেনা করে থাকে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কে কত কম মুনাফায় বিক্রি করে সেটাই মূল বিষয়।’
আরেক চিনি ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সরকার চিনির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করলেও মিল মালিকরা চিনির দাম সেভাবে কমায়নি। গত এক-দেড় মাস আগেও চিনি যে দরে বেচাকেনা হয়েছে, এখনো একই দামে বেচাকেনা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা যদি জোরদার করা হয় এবং মিল গেট থেকে আরো কিছু কম দামে চিনি সরবরাহ করা হলে পাইকারি ও খুচরায় দাম আরো কমে আসত।










