চীনে ইস্পাত উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত দুর্বল চাহিদার কারণে দেশটির ইস্পাত উৎপাদক কোম্পানিগুলো লম্বা সময় ধরেই লোকসানে। ফলে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয় এসব কোম্পানি। নভেম্বরে ইস্পাত উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। গত মাসে দেশটি সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। অক্টোবরে উৎপাদন করা হয়েছিল ৭ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার টন।

জিনরুই ফিউচারসের বিশ্লেষকরা বলছেন, ইস্পাত উৎপাদকরা স্বেচ্ছায় তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ ব্যবসার ক্ষেত্রে তাদের এখনো বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। চলতি বছরের বড় একটি অংশজুড়েই ইস্পাত খাত লাভের মুখ দেখেনি। লাভের পরিমাণ বাড়ার আগ পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে উৎপাদন কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছরের নভেম্বরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন কয়েক বছরের সর্বনিম্নে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার টনে নেমেছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বরে গড় দৈনিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৪ লাখ ৯০ হাজার টন, যা এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশটির প্রপার্টি মার্কেটে চলমান অস্থিরতা ইস্পাতের চাহিদা কমাচ্ছে। এটিও উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশটি ৯৩ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

তবে চীনে ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ আকরিক লোহা আমদানি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। নভেম্বরে আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির শুল্ক বিভাগ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বছর শেষ হওয়ার আগেই ধাতুটির মজুদ বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, টালমাটাল পরিস্থিতিতে থাকা প্রপার্টি মার্কেটকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বেইজিং। এ কারণে ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান উপকরণটির চাহিদা আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠবে।

শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, গত মাসে চীন সব মিলিয়ে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টন আকরিক লোহা আমদানি করেছে। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টন।