যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনরুদ্ধার কাজে সহায়তা করতে চায় জাপান। দেশটির বিনিয়োগ কোম্পানি সুমিতোমো করপোরেশন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রাকুতেন গ্রুপসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় ২০ সংস্থা সহায়তায় অংশ নেবে। যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবে সংস্থাগুলো।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হবে। রাশিয়ার আক্রমণ অধিকাংশ সময় পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পশ্চিম ইউক্রেনে অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আগামী মাসে টোকিওতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে জাপান ও ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবে এবং নির্দিষ্ট প্রকল্প ঘোষণা করবে।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেনে আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাকুতেন গ্রুপের টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো কোম্পানি ‘রাকুতেন সিম্ফনি’ ইউক্রেনের একটি প্রধান টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির আওতায় টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করবে তারা। রাকুতেন সিম্ফনি ওপেন রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক (ওআরএএন) নির্মাণ করবে। কোম্পানিটি বিভিন্ন টেলিকম নির্মাতাদের কাছ থেকে সরঞ্জাম সংগ্রহ করে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জেনারেটর চালু করবে জাপানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি কোমায়হলটেক। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে জেনারেটরগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
ইউক্রেনের ভিন্ন একটি জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করবে ট্রেডিং গ্রুপ সুমিতোমো। সেখানে তারা সোভিয়েত আমলের গ্যাস সরঞ্জামগুলোকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিস্টেমের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করবে।
সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও ইউক্রেনকে সহায়তা করবে জাপান। ব্যবসায়ীদের সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রধানকারী গ্লোবাল সিকিউরিটি এক্সপার্টস ইউক্রেনের বেসরকারি খাতে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।
এছাড়া জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার জন্য একটি ফোরাম প্রতিষ্ঠা করবে। পাশাপাশি জাপানি ডিকার্বনাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়তা করবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে একটি ক্রেডিট মেকানিজম প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবে দুই দেশ।
আগামী ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতগুলোর জন্যেও প্রকল্প প্রস্তাব রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে মাইন ক্লিয়ারিং, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, কৃষি দক্ষতা ও জৈবপ্রযুক্তির মতো নতুন শিল্পের বিকাশ।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা। এছাড়া জাপানি বিজনেস ফেডারেশন বা কেইদানরেনের সদস্য কোম্পানি ও র্স্টাটআপগুলোর প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।










