ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) নির্দেশে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন জেটলাইনারের সবক’টি উড়োজাহাজের উড়াল বন্ধ থাকায় বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসানের পূর্বাভাস দিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। খবর সিএনবিসি।
সম্প্রতি আলাস্কা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের জানালা খুলে পড়ার ঘটনায় বন্ধ করে দেয়া হয় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন জেটলাইনারের বড়সংখ্যক ফ্লাইট। যে কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৩৫-৮৫ সেন্ট পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা করছে তারা। সংস্থাটির হ্যাঙ্গারে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি উড়োজাহাজ, যা অন্য যেকোনো উড়ান সংস্থা থেকে বেশি। এর মধ্যে ৭৯টি বোয়িং ৭৩৭-ম্যাক্স ৯, যা অন্য যেকোনো এয়ারলাইনসের চেয়ে বেশি। এছাড়া ইউনাইটেডের কাছে বোয়িং ৭৩৭-৯০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে ১৩৬টি।
২০২৩ সালের শেষ তিন মাসে ইউনাইটেড ৬০ কোটি ডলার নিট আয় দেখিয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ কম। তবে আয় হয়েছিল ১৩৬৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের সিইও স্কট কিরবি অবশ্য জানান, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সত্ত্বেও তারা সফলভাবে ইপিএসের লক্ষ্য অর্জন করেছেন এবং গ্রাহকদের জন্য নতুন পদক্ষেপ নিয়ে রেকর্ড স্থাপন করেছে। ইপিএস হলো প্রতি শেয়ার বাবদ কোম্পানির আয়।
দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে চলমান তদন্তের কারণে চলতি মাসে আলাস্কা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসকে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এ অবস্থায় বছরের প্রথম প্রান্তিকে ক্ষতির আশঙ্কা করছে তারা। তবে বাৎসরিক আয়ের অনুমিত হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম প্রান্তিকের লোকসান পুষিয়ে নিয়ে লাভের মুখ দেখতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে।
বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের অন্যতম বোয়িং ৭৩৭ সিরিজ। ২০১৭ সালে এ সিরিজের একটি সম্প্রসারিত সংস্করণ করা হয় ৭৩৭-ম্যাক্স নামে। এটি সাধারণ ৭৩৭ থেকে বেশি যাত্রী পরিবহন ও অপেক্ষাকৃত বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে। ২০২২ সালে পরপর দুটি দুর্ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে ওঠে বোয়িংয়ের নতুন এ মডেল।










