ফিলিপাইন ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে রেকর্ড চাল আমদানি করতে পারে। বিপুল উৎপাদন ও পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এ সময় চাল আমদানি বাড়াতে পারে দেশটি। আমদানি বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে চাল আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে কমিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্ত। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বাড়াতে পারেন ফিলিপাইনের ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস) এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।  

এফএএসের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে ফিলিপাইন ৪৭ লাখ টন চাল আমদানি করতে পারে। গত বছরও একই পরিমাণ চাল আমদানি করে রেকর্ড গড়েছিল দেশটি। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সম্প্রতি ফিলিপাইন বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি এল নিনো থেকে উত্তরণ করেছে। এতে ফসল উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ কারণে দেশটির সরকার কৃষি যন্ত্রাংশ ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তাই দেশটিতে চালের উৎপাদন ভালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ফিলিপাইনে ১ কোটি ২৭ লাখ টন সাদা চাল উৎপাদন হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। 

তবে এফএএস বলছে, উৎপাদন সামান্য বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট হবে না। চলতি বছর দেশটিতে চালের ব্যবহার পৌঁছাতে পারে ১ কোটি ৭২ লাখ টনে। তাই বাড়তি চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়াতে হবে দেশটিকে। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ফিলিপাইনের সরকার আপৎকালীন মজুদ (বাফার স্টক) ধরে রাখতে চাল ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে। তাই ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে দেশটিতে চালের সমাপনী মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪২ লাখ টনে। 

এফএএস বলছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুম নাগাদ ধান মাড়াই শেষ হলে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম কমতে পারে। তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণভাবে চালের দাম এখনো বেশি। কারণ এর আগে ব্যবসায়ীদের বেশি দামে চাল কিনতে হয়েছে। তাই সে পরিমাণ মুনাফা লাভের আশায় এখনো চালের মজুদ ধরে রেখেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। 

বিশ্বের শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশগুলোর একটি ফিলিপাইন। আর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনাম। সম্প্রতি ফিলিপাইন চাল বাণিজ্যে ভিয়েতনামের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ দেশ থেকে চাল আমদানি বাড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভিয়েতনাম মোট চাল রফতানির ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ রফতানি করেছে ফিলিপাইনে।