চলতি বছরের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক মন্দা ভাব আরো বেড়েছে। টানা দশম মাসের মতো দেশটির রফতানি বাজার নিম্নমুখী, জুলাইয়ে যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য তদারকি প্রতিষ্ঠান এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে জুনের তুলনায় তেলবহির্ভূত অভ্যন্তরীণ রফতানি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ২০২২ সালের জুলাইয়ের তুলনায় রফতানি ২০ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। রফতানি দুর্বল হওয়ার কারণ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের চাহিদা কমে যাওয়া। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মন্থর পুনরুদ্ধারের গতিও আরো একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের প্রধান অর্থনীতিবিদ লুই কুইজ জানান, বিদ্যমান কারণগুলো দ্রুত সমাধান করার সম্ভাবনা কম। ডিবিএস ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ চুয়া হান টেং বাণিজ্যিক টানাপোড়ন অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, পরিস্থিতির ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ উন্নতি হতে পারে। ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রনিকসবহির্ভূত উভয় খাতেই গত কয়েক মাস স্থিতিশীলতা রয়েছে। 

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স হোমস চ্যালেঞ্জিং বাহ্যিক পরিবেশ ও সম্ভাব্য মার্কিন মন্দার পূর্বাভাস করেছেন। জুলাইয়ে ইলেকট্রনিকস রফতানি ২৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম রফতানির উন্নতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, ডিস্ক মিডিয়া পণ্য ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের অংশগুলোয় দীর্ঘায়িত বাধামুক্ত করতে পারেনি। ইলেকট্রনিকসবহির্ভূত রফতানি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত সিঙ্গাপুরের বেশির ভাগ শীর্ষ বাজারগুলোয় রফতানি কমেছে। রিফাইনারি প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ এবং দুর্বল চাহিদার কারণে পেট্রোকেমিক্যাল রফতানি বছরে ২৩ শতাংশ কমেছে। 

চীনে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, ফার্মাসিউটিক্যালস ও পেট্রোকেমিক্যালের রফতানি ২০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিক বাণিজ্য ২০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে জুনের ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ পতনকে আরো প্রসারিত করেছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি কম হওয়ায় অভ্যন্তরীণ তেল রফতানি ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

সিঙ্গাপুর তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশে সংশোধিত করেছে, যা আগে দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রাখা হয়েছিল। রফতানির নিম্নমুখিতার কারণ দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের চাহিদা কমে যাওয়া। তেলবহির্ভূত অভ্যন্তরীণ রফতানি ও মোট পণ্যদ্রব্য বাণিজ্যের প্রক্ষেপণ ২০২৩ সালে ৯ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। এটি উৎপাদন মন্দা ও তেলের নিম্নমূল্য দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।