এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা করে কমেছে। বাজারে বোরো ধানের নতুন চাল আসতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে। দাম কমায় স্বস্তি ফিরছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে।

হিলির বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে শম্পাকাটারি চাল ৫৬ থেকে কমে ৫৩ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৮ থেকে কমে ৫৬, জিরা চাল ৫০ থেকে কমে ৪৮, রত্না চাল ৪৬ থেকে কমে ৪৩-৪৪ ও স্বর্ণা চাল ৪৪ থেকে কমে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক লুত্ফর রহমান বলেন, করোনার কারণে আগের মতো আয়রোজগার নেই। এর মধ্যেই চালের দাম ছিল চড়া। ফলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের চাল কিনে খাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নতুন চাল আসার কারণে দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে কমেছে। এতে আমাদের মতো মানুষের সুবিধা হয়েছে।

চাল কিনতে আসা শ্রমজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, আগে মোটা চালের দাম ছিল ৪৪-৪৫ টাকা। নতুন চাল আসার কারণে দাম কমে ৪১-৪২ টাকা হয়েছে। ফলে আমরা চাল কিনতে পারছি। দাম কমতে থাকলে আমরা স্বাভাবিকভাবে চালের চাহিদা মেটাতে পারব।

হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা স্বপন কুমার ও সুব্রত কুণ্ডু বলেন, সম্প্রতি সারা দেশে বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। আমদানীকৃত ধানের পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। দেশের সব অটোমিল চালু হয়ে যাওয়ায় চাল উৎপাদন শুরু হয়েছে। দেশীয় নতুন চাল বাজারে আসায় গুদামে থাকা আমদানীকৃত চাল কম দামেই বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে চালের সরবরাহও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে কমেছে। সামনের দিনে চালের দাম কেজিতে আরো ১-২ টাকা কমতে পারে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ ট্রাক করে চাল আমদানি অব্যাহত ছিল। এ সময় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১ লাখ ৭১ হাজার টন চাল ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গত ৩০ এপ্রিল থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বন্দরের ওয়্যারহাউজে যেসব চাল ছিল সেগুলোও আমদানিকারকরা পর্যায়ক্রমে খালাস করে নিজস্ব গুদামে মজুদ করেছেন।