চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে ঘন ঘন তাপপ্রবাহ, খরা ও বনাঞ্চলে দাবানলের মতো ঘটনায় ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সতর্ক হয়ে উঠছেন পর্যটকরা। হুমকির মুখে পড়তে পারে এসব অঞ্চলের আগামী দিনের পর্যটন খাত। খবর ডয়চে ভেলে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইটিসি সমীক্ষার লেখকরা একমত হয়েছেন, ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল পর্যটন চাহিদার উল্লেখযোগ্য হ্রাসের‌ মুখোমুখি হচ্ছে। গ্রীষ্মে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ ইউরোপের আবেদন কমবে বলে মত দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর ও মধ্য ইউরোপ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লাভবান হতে পারে। সেখানে আরো বেশি পর্যটক আকৃষ্ট হতে পারে।

সুইডেনের কালমারের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান গসলিং বলেছেন, ‘‌ভূমধ্যসাগরের চারপাশে প্রতি বছরই বিধ্বংসী দাবানল লেগে থাকে। তাপপ্রবাহের ফলে এখানকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠে যায়। এখানে খরার মতো সমস্যা সাধারণ বিষয়। এসব প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও স্পেন, গ্রিস ও ইতালির মতো দক্ষিণ ইউরোপীয় দেশগুলোয় চলতি গ্রীষ্মে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসছে। এখন পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখানে ‌ভ্রমণের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।’‌

চলতি বছর ইতালিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসবে বলে প্রত্যাশা করছে দেশটি। গ্রীষ্মে স্পেনের বেশির ভাগ হোটেলই বুকিং হয়ে যায়। জার্মান ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (ডিআরভি) অনুসারে, ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোও এ বছর জার্মান পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর তালিকায় রয়েছে৷আর ইউরোপিয়ান ট্রাভেল কমিশনের (ইটিসি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন এখনো ইউরোপীয়দের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য।

জার্মানির হামবুর্গে ফাউন্ডেশন ফর ফিউচার স্টাডিজের বৈজ্ঞানিক পরিচালক প্রফেসর উলরিচ রেইনহার্ড বলেছেন, ‘‌বেশির ভাগ ভ্রমণকারীরই সাময়িক স্মৃতি থাকে।’‌

তিনি বলেন, ‘‌বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রৌদ্রোজ্জ্বল সৈকত, উষ্ণ আবহাওয়া, বন্ধুত্বপূর্ণ স্থানীয় আদিবাসী এবং স্থানীয় সংস্কৃতি অন্বেষণ করার সুযোগগুলো এখনো বেশ রোমাঞ্চকর। তাই বহু অবকাশ যাপনকারী এখনো এ অঞ্চলগুলোয়ই তাদের ছুটি কাটাতে চাইবেন। তার পরও বিশ্বের এ অংশে পর্যটনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।’

গোসলিং মনে করেন পর্যটন প্রবণতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হবে। ভবিষ্যতে গ্রীষ্ম ব্যতীত অন্যান্য কম জনপ্রিয় ভ্রমণ মৌসুম স্পেন, ইতালি ও গ্রিসে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। ফিউচারোলজিস্ট উলরিচ রেইনহার্ড একমত, এরই মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উত্তরের পর্যটন গন্তব্যগুলোর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে ২০-৫০ বছরের মধ্যে পর্যটকরা তাদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি একচেটিয়াভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোয় কাটাবে না। শুধু এ কারণে নয় যে এই দেশগুলো গণহারে পর্যটক নিতে প্রস্তুত নয়। পশ্চিম ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য উত্তর ও বাল্টিক সাগরের আশপাশের পর্যটন গন্তব্যগুলো নতুন হটস্পট হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনগুলোয়। আমি আল্পাইন পর্যটনের একটি পুনর্জাগরণ ও পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলগুলো আগামীতে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পাবে বলে প্রত্যাশা করছি।’