চীনের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বেড়েছে। পাইপলাইন ও তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) মিলে গত নভেম্বরে দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে এ মাসে ৯৪ লাখ ৫৫ হাজার টন প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করেছে দেশটি। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে গ্যাসের আমদানি বাড়লেও গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি অনেক শ্লথ। কারণ গত বছর দেশটিতে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের তুলনায় আমদানি ৪০ শতাংশ বেড়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক শ্লগগতি এবং কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে পলিসিগত কারণে গ্যাসের প্রবৃদ্ধি ধীরগতিতে রয়েছে।

কাস্টমসের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) চীনে সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৩ হাজার টন প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার টন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় আমদানি বৃদ্ধির হার ৩৩ শতাংশ।

বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ চীনের অর্থনীতি শ্লথগতিতে রয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য বলছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৬ শতাংশে চলে এসেছে। যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪ ও ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের বাজারে কয়লার চেয়ে গ্যাসের ব্যবহার খরচ বেশি হওয়ায় চাহিদা কমছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যবহার কমে আসায় গ্যাস আমদানি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির ধারা বজায় রয়েছে।

চীনের ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চলতি বছরের জুলাইয়ে জানায়, শীত মৌসুমে তারা গ্যাসের পরিবর্তে সবার জন্য সহজ হয়, এমন জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।