যুক্তরাজ্যে সদ্য অবসরে যাওয়া অনেক শিক্ষক সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নির্ধারিত পেনশন পাচ্ছেন না। অনেকে বলছেন, তারা প্রতি মাসের নির্ধারিত নানা বিল পরিশোধ করতে না পেরে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ‘টিচার্স’ পেনশনস’ নামের সরকারি স্কিম অবসর ভাতা পরিশোধের কাজ পরিচালনা করে। কিন্তু জমে থাকা আবেদন (ব্যাকলগ), প্রক্রিয়াগত বিলম্ব ও দুর্বল যোগাযোগের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

৫৮ বছর বয়সী স্যালি ক্লোজ দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দা। তিনি মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান পড়াতেন। গত আগস্টে অবসরে গেছেন। এককালীন অর্থ (লাম্প সাম) হিসেবে তার পাওয়ার কথা প্রায় ৩৬ হাজার পাউন্ড। সঙ্গে মাসিক ১ হাজার পাউন্ড পেনশন। কিন্তু এখনো তিনি কিছুই পাননি। মার্চে পেনশনের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি।

একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন গ্লুচেস্টারশায়ারের বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী নিকি ক্যাভিনি। তিনি ইংরেজি পড়াতেন। অবসরের পর ৬৫ হাজার পাউন্ড এককালীন অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো পাননি। ফলে পরিকল্পিত অবসর ছুটিতেও তিনি দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

ওয়ারউইকশায়ারের এক শিক্ষক ৩২ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ানোর পর ৫৫ বছর বয়সে আগাম অবসরে যান। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই লাম্প সাম পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো পাননি। এতে বড় অংকের ক্রেডিট কার্ড বিল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এখন অতিরিক্ত সুদ গুনতে হচ্ছে এবং মাসিক খাবার, বিল ও মর্টগেজ পরিশোধও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পেনশন বিলম্ব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার সমস্যা এখন বড় আকার নিয়েছে। গ্রাহক মতামত ও রেটিং প্লাটফর্ম ট্রাস্টপাইলটের ওয়েবসাইটে টিচার্স’ পেনশনস নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। সেখানে ৭০০-এর বেশি ব্যবহারকারীর মতামতের মধ্যে ৯৫ শতাংশই এক তারকাবিশিষ্ট রেটিং, যা সর্বনিম্ন মূল্যায়ন।

টিচার্স’ পেনশনস যুক্তরাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পরিচালনা করছে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটা। এ স্কিমের সদস্য ২২ লাখের বেশি। এটি দেশটির অন্যতম বড় পেনশন ব্যবস্থা। তবে ২০২৩ সালে নতুন চুক্তি পায় টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস। শুরুতে এ দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ছিল চলতি অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু তা পিছিয়ে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে নেয়া হয়েছে।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ ক্যাপিটাকে পাঠানোর পর বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, চারটি অভিযোগ সমাধান করা হয়েছে এবং দুটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।

ক্যাপিটার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘‌অর্থ প্রদান দেরি হওয়ার কিছু কারণ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এর মধ্যে রয়েছে সদস্যদের ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা। এছাড়া অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র জমাও দেরির একটি কারণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সদস্যদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের উপায় খোঁজা হচ্ছে। বিলম্বের জন্য তারা দুঃখ প্রকাশও করেছেন।’

২০১৫ সালে সরকারি খাতের পেনশন পরিবর্তনকে আদালতের এক রায়ে বলা হয়েছিল, এটি বয়স সম্পর্কিত বৈষম্যের শামিল। এ কারণে নতুন করে অনেকের প্রাপ্য অর্থ পুনর্গণনা করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক চাপ বেড়েছে এবং প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পেনশন পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কেউ বন্ধকি ঋণ শোধ করতে পারছেন না। কেউ আবার খাবার ও মাসিক বিল মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এখনই কার্যকর সমাধান না করা হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।