সিটি ব্যাংক পিএলসি, মিল্ক ভিটা ও অ্যাগ্রোশিফট সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (গড়ট) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে দেশের দুগ্ধ ও গবাদিপশু খামারিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে একটি ডিজিটাল ডেইরি ফাইন্যান্সিং ইনিশিয়েটিভ চালু করা হবে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিলের উপস্থিতিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাগ্রোশিফটের সিইও কাজী বুলান্দ মুসাব্বির; সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও মো. মাহবুবুর রহমান; উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব স্মল, মাইক্রোফাইন্যান্স অ্যান্ড এজেন্ট ব্যাংকিং বিজনেস কামরুল মেহেদী; উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. আশানুর রহমান; মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্ম সচিব জাহিদুল ইসলাম; অ্যাগ্রোশিফটের সিওও দীপ্ত সাহাসহ তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ-প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নে সীমিত প্রবেশাধিকার ও সমাধান করা। এই খাত দেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১২ লাখ দুগ্ধ খামার রয়েছে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯৪ লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উপখাত জাতীয় জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপির ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ অবদান রাখে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টন দুধ উৎপাদিত হয়েছে, যা উৎপাদনের দিক থেকে এশিয়ায় পঞ্চম এবং বিশ্বে ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশের দুগ্ধবাজারে বার্ষিক গড়ে ৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং বাজারের আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৩ লাখ কোটি টাকা। তবে এ সম্ভাবনা সত্ত্বেও দেশে দুধের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে এবং মোট উৎপাদিত দুধের মাত্র ৯ শতাংশ বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থার আওতায় আসে।
এ উদ্যোগের আওতায় দেশের বৃহত্তম দুগ্ধ সমবায় নেটওয়ার্ক মিল্ক ভিটা তাদের ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি প্রাথমিক সমবায় সমিতি, ৬১টি চিলিং সেন্টার এবং ৫৭টি জেলায় কার্যরত ৩ লক্ষাধিক দুগ্ধ খামারির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খামারিদের অন্তর্ভুক্ত করবে। অ্যাগ্রোশিফট প্রযুক্তি ও ইকোসিস্টেম সহযোগী হিসেবে কাজ করবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খামারি শনাক্তকরণ, ডিজিটাল অনবোর্ডিং, ই-কেওয়াইসি, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ঋণের ব্যবহার ট্র্যাকিংয়ে সহায়তা করবে।
এই ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সিটি ব্যাংক দুগ্ধ ও গবাদিপশু খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন সুবিধা দেবে, যা উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে।
সমবায় নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং আর্থিক দক্ষতার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ একটি শক্তিশালী সহযোগিতার উদাহরণ। একটি টেকসই ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ও খামারি অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এটি দুগ্ধ মূল্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খাতে সিটি ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারও এ উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকটি মোট ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের মধ্যে প্রায় ৪১৩ কোটি টাকা দুগ্ধ খামার খাতে বিতরণ করেছে, যা ব্যাংকের কৃষি অর্থায়ন কার্যক্রমে এ খাতের কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে মিল্ক ভিটার সমবায় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১ লক্ষাধিক খামারিকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা, দেশের ৬৪টি জেলায় সম্প্রসারণযোগ্য একটি দুগ্ধ অর্থায়ন মডেল প্রতিষ্ঠা করা এবং ৩ লক্ষাধিক খামারির জন্য একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে, আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করবে এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি টেকসই কাঠামো গড়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সহযোগিতা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি অর্থায়নের একটি রূপান্তরমূলক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দুগ্ধ খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।— সংবাদ বিজ্ঞপ্তি










