২০১৯-২০ হিসাব বছর থেকে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় তালিকাভুক্ত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে তদন্ত কমিটি নিয়োগ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্ত কমিটি সংস্থাটির কাছে কোম্পানিটির বেশকিছু অনিয়মের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানির পরিচালকদের সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করা এবং স্থায়ী ও অন্যান্য সম্পদ বাড়িয়ে দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটিতে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেছে কমিশন। পাশাপাশি কোম্পানিটিকে ‘‌এ’ থেকে ‘‌জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের পাশাপাশি ‘‌জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরুর পরবর্তী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটিকে ছয় মাসের মধ্যে কমিশনের নীতিমালা অনুসরণ করে সমাপ্ত হিসাব বছরের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করতে বলা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, তদন্ত কমিটি বিএসইসির কাছে জমা দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রেও প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করা হয়নি এবং বিধান অনুসারে হিসাবায়নের মানও যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া আগের কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদনেও কোম্পানিটি সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেনি। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির পরিচালকরা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। কোম্পানিটি তাদের স্থায়ী ও অন্যান্য সম্পদের প্রকৃত তথ্য না দেখিয়ে অনিয়ম করেছে। যাতে মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে উল্লেখিত নিট সম্পদমূল্যে (এনএভি) অসত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। কোম্পানিটি করপোরেট গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রেও আইন ভঙ্গ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ, কর্মচারীদের পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি এবং বোনাস সঞ্চিতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম করেছে। উল্লেখিত অনিয়ম ছাড়াও কোম্পানিটিতে আরো বেশকিছু অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসব অনিয়ম কোম্পানিটিকে ধীরে ধীরে সংকটে ফেলে দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির এমন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোম্পানির বিদ্যমান চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশাপাশি আরো পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেছে বিএসইসি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৯৬-এর ২০ নং ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনে (বিটিএমসি) সাবেক চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামিল শরীফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাজরিনা ফারাহ ও দি এশিয়ান এজ, ডেইলি দেশকাল ও এইচএসটিসি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম শোয়েব চৌধুরী।

এদিকে ২০২০ সালের পর দুই বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা না করা এবং এজিএম করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটিকে লেনদেনের জন্য ‘‌এ’ থেকে ‘‌জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠিয়েছে বিএসইসি। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুসারে গতকাল থেকেই কোম্পানির লেনদেন ‘‌জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানন্তর করা হয়েছে।

এদিকে সময়মতো গ্রাহকের বীমা দাবির অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি কোম্পানিটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কোম্পানিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে আইডিআরএর পরিচালক মো. আব্দুল মজিদকে নিয়োগ করা হয়েছে।