তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিতে নতুন রেকর্ড করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, গত অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশটি থেকে এলএনজিবাহী শতাধিক কার্গো বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এ সময় দৈনিক রফতানির পরিমাণ ৬০০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে যায়। খবর ন্যাচারাল গ্যাস ইন্টেল।

ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক গড়ে ৫৮০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি করেছে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে ৫২টি কার্গো। আর নভেম্বরে রফতানি আরো বেড়ে দৈনিক গড় দাঁড়িয়েছে ৬৩০ কোটি ঘনফুটে। আর এলএনজিবাহী কার্গো ছেড়ে গেছে ৫৫টি।

এ হিসাবে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এলএনজি রফতানি করেছে দৈনিক গড়ে ৪৮০ কোটি ঘনফুট, যা ২০১৮ সালের গড়ের তুলনায় অন্তত ৬১ শতাংশ বেশি। গত বছর দৈনিক গড় রফতানি ছিল ৩০০ কোটি ঘনফুট।

যুক্তরাষ্ট্রে এলএনজির উৎপাদন বৃদ্ধি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং দৈনিক গড়ে ৬৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা করছে ইআইএ।

এলএনজি রফতানিতে কাতার ও অস্ট্রেলিয়ার পরই এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি শীর্ষে উঠে আসবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ এরই মধ্যে নতুন ২০টি প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো উৎপাদনে এলে দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের মোট এলএনজির দৈনিক গড় উৎপাদনে আরো ৩ হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুট যুক্ত হবে।

ইআইএর তথ্যমতে, এখনই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রফতানি টার্মিনালে সরবরাহ বৃদ্ধির হার বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে যে হারে ফিডস্টক সরবরাহ এসব টার্মিনালে গেছে তা গত বছরের তুলনায় দৈনিক ২৮০ ঘনফুট বেশি। পাইপলাইনের সরবরাহ এ বছরের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো দৈনিক ৬০০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে যায়। নভেম্বরে এ হার ছিল দৈনিক গড়ে ৭৪০ কোটি ঘনফুট। এছাড়া টেক্সাসে ফ্রিপোর্ট এলএনজির দ্বিতীয় পরিশোধন ও শীতলীকরণ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর গত সপ্তাহে পাইপলাইনে সরবরাহ দৈনিক ৮৩০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইআইএ।

সংস্থাটি আশা করছে, ফিডস্টক ডেলিভারি আগামীতে আরো বাড়বে। কারণ ফ্রিপোর্টের অবশিষ্ট এবং ক্যামেরন ও এলবার শীতলীকরণ কেন্দ্রগুলো ২০২০ সালে উৎপাদনে আসবে।

ইআইএর হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শীতলীকরণ সক্ষমতা দৈনিক ন্যূনতম (বেইজলোড) ৬১০ কোটি ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ ৭৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে সচল ছয়টি স্থাপনার ১৫টি শীতলীকরণ কেন্দ্র থেকে এ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে রফতানি বৃদ্ধির কারণে বেইজলোড চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধির হার খুব কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রফতানি এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ও স্পট মূল্যকে আরো বেশি সংবেদনশীল করে তুলছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। যেখানে বিশ্বব্যাপীই এলএনজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো কেন্দ্র পুরোদমে উৎপাদনে আসার কারণে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির সরবরাহ উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এরই মধ্যে এ তরল গ্যাসের দামও পড়তির দিকে।

যদিও এ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি উৎপাদন বছর বছর বাড়ছেই। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বরে দেশটির প্রায় সবকটি উৎপাদনকেন্দ্র সক্ষমতার কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ব্যবহার করেছে।