সহস্রাধিক আউটলেট নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল মালয়েশীয় পানীয় চেইন হয়ে উঠেছে জেডইউএস কফি। ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ক্যান ও বোতলজাত পানীয়র দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। মূলত তরুণদের লক্ষ্য করে নিজস্ব আউটলেটের বাইরে বিক্রির সুযোগ খুঁজছে জেডইউএস। খবর নিক্কেই এশিয়া।

জেডইউএস কফির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গ্রুপ সিওও ভেনন টিয়ান বলেন, ‘কানজাত পানীয় আমাদের ব্যবসার সহজাত সম্প্রসারণ। এটি ক্রেতাদের ক্যাফের বাইরে যেকোনো জায়গায় জেডইউএসের স্বাদ উপভোগের সুযোগ দেয়।’

বর্তমানে মালয়েশিয়ার প্রায় ২১ হাজার খুচরা দোকানে জেডইউএসের পণ্য বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে রেডি টু ড্রিংক বোতলজাত ও ক্যানজাত পানীয় এবং ইনস্ট্যান্ট কফি। এছাড়া কোম্পানির ওয়েবসাইট ও প্রধান ই-কমার্স প্লাটফর্মের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি হয়। জনপ্রিয় এসপ্রেসো লাটে ১২ ক্যানের দাম প্রায় ৫০ রিঙ্গিত বা ১২ ডলার ২০ সেন্টের সমতুল্য।

অবশ্য জেডইউএস ক্যাফের কাউন্টারভিত্তিক মূল ব্যবসার তুলনায় খুচরা পণ্য ব্যবসা এখনো ছোট। তবে কোম্পানি আশা করছে, দুই-তিন বছরের মধ্যে এটি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশে পরিণত হবে।

বিক্রি সম্প্রসারণের পাশাপাশি পার্টনারশিপ কৌশলেও এগোচ্ছে জেডইউএস। মালয়েশিয়ার বাজেট এয়ারলাইনস এয়ারএশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে তাদের পানীয় পণ্য এখন ফ্লাইটে খাবারের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয়।

জনপ্রিয় পণ্যের পাশাপাশি নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করছে জেডইউএস। স্প্যানিশ লাটে, ওয়াটারমেলন লাটে ও উবে লাটের মতো স্বাদও সীমিত সংস্করণে বাজারে এনেছে। এসব পানীয়র গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভেনন টিয়ান বলেন, ‘গ্রাহকরা ব্র্যান্ডের সাহসী দিকটি উপভোগ করছেন।’

তরুণদের আকৃষ্ট করতে অ্যাপভিত্তিক অর্ডারিং সিস্টেম এবং টেকঅ্যাওয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ছোট আকারের স্টোর ফরম্যাট ব্যবহার করছে জেডইউএস। এটি কার্যকর প্রমাণ হয়েছে। এখন মালয়েশিয়ার আট শতাধিক আউটলেটের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনেও ক্যাফে পরিচালনা করছে জেডইউএস। গত অর্থবছরে জেডইউএসের নিট মুনাফা ছিল রেকর্ড ৩ কোটি ৭০ লাখ রিঙ্গিত।

গত বছর ব্যবসা সম্প্রসারণে জেডইউএস ক্যাফে ২৫ কোটি রিঙ্গিত তহবিল সংগ্রহ করেছিল। তবে এবার তারা নতুন পুঁজি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়নি। অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে কোম্পানিটি। শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়ার মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ নিয়েও তাড়াহুড়া নেই বলে জানিয়েছেন ভেনন টিয়ান। বরং তাদের মূল মনোযোগ হলো ব্যবসায় স্থিতিশীলতা ধরে রাখা।

ক্যাফে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আগামী বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের পরিকল্পনা করছে জেডইউএস। একই বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রায় ২০০টি নতুন শাখা খোলার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান, মরক্কো ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশীদারদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার কথাও জানান ভেনন টিয়ান।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কফি চেইনের ব্যবসা এরই মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের লাকিন কফি ও লাকি কাপ চালুর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দুই পক্ষই ক্রেতা টানতে মূল্য নির্ধারণে আগ্রাসী মেজাজে রয়েছে।

পরামর্শক সংস্থা পিডব্লিউসি মালয়েশিয়ার কনজিউমার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাক্টস বিভাগের প্রধান রাকেশ মানি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কফি বাজার ক্রমে বিভাজিত হচ্ছে। স্থানীয় ও বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো এখানে প্রতিযোগিতা করছে। তবে যারা বিশ্বাসযোগ্যতা ও ডিজিটাল দক্ষতা একত্রিত করতে পারবে, তারা এগিয়ে থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় ব্র্যান্ডের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার রয়েছে। সাংস্কৃতিক দক্ষতা ও মূল্যমান বোঝার স্বাভাবিক বোধ। তারা এমন ব্র্যান্ড ও অভিজ্ঞতা তৈরি করছে, যা ভোক্তাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি দেয় এবং গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করে।’