দেশের পুঁজিবাজারে উত্তরাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিনিয়োগকারী একেবারেই কম। একই সঙ্গে এসব জেলায় নারী বিনিয়োগকারী আরো কম। তাদের পুঁজিবাজারমুখী করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. আব্দুল হালিম। তিনি গতকাল বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘টেকসই নীতি ও অব্যবহৃত বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সূচনা বক্তব্যে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ার ফলে বাজারে পণ্য বৈচিত্র্য এসেছে। এর ফলে যেমন বাজার বড় হচ্ছে তেমনি ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সবার মাঝে বাড়তি সাবধানতা ও সতর্ক থাকা একান্ত প্রয়োজন।’

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা, টেকসই ব্যবসা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, পরিবেশ ও সামাজিক সুশাসন, টেকসই চর্চার নীতি উদ্দেশ্য ও মূল উপাদান, টেকসই বিনিয়োগ ও অনুশীলনের সুবিধা, গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভস, টেকসই রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে ডিএসই ও জিআরআইয়ের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশে সাসটেইনেবল রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারমুখী হবেন। দেশের কয়েকটি জেলায় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি। অন্য জেলাগুলোয় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী অনেক কম। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জেলায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী একেবারেই কম। একই সঙ্গে এসব জেলায় নারী বিনিয়োগকারী আরো কম। তাদের পুঁজিবাজারমুখী করতে হবে।’৷

ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু তার বক্তব্যে বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন করতে গেলে স্থিতিশীল বিনিয়োগ প্রয়োজন, যেটি বর্তমান সরকার করে যাচ্ছে। যেকোনো দেশের বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগের আগে সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয় লক্ষ করেন। এজন্য বিদেশী বিনিয়োগ আনতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশের পুঁজিবাজারকে টেকসই করতে হবে। এখানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে। এজন্য টেকসই অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

ডিবিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাজিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, ডিবিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিন, জিআরআই দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. অদিতি হালদার ও সিএমজেএফ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।