মূল্যস্ফীতির চাপে গত বছর থেকেই বিশ্বের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোয় কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতির চাপ। কিন্তু ব্যাংকগুলো এখনো সুদের হার বৃদ্ধির নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোনভুক্ত দেশগুলো, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, কানাডা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোয় ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তীব্রতা কমেছে। কিন্তু এখনো সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অনেক দেশেই নীতিগত সুদের হারও বাড়িয়েছে।

এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ায়। উদ্দেশ্য তহবিলের টার্গেট রেটের সবোর্চ্চ সীমা ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। এর পরের দিনই ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক সুদের হার বাড়ায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট, ব্যাংকের মূল পুনঃঅর্থায়ন কার্যক্রমের হার বাড়ানো হয় ৩ শতাংশ পর্যন্ত। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও ব্যাংক রেট শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ শতাংশে উন্নীত করেছে।

ফিচ বলছে, ‘সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য অনেক দেশেও সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।’

গত বছর অনেক অর্থনীতিবিদই আশঙ্কা করেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে আগ্রাসী মনোভাব এবং সুদের হার বৃদ্ধির কারণে জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। যদিও আশ্চর্যজনকভাবে সে আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়নি। ফিচ বলছে, ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২ দশমিক ৯ শতাংশ হারে প্রসারিত হয়েছে, যা মন্দার আশঙ্কার মধ্যে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি। একই সময়ে ইউরোজোন এলাকায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ এবং স্থিতিশীল ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপি। চীন ও যুক্তরাজ্য দুটি দেশেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি সংকোচনের শঙ্কাকে ছাড়িয়ে গেছে।

ফিচের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদীয়মান বাজারগুলো এখন পর্যন্ত একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে। কারণ ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোর বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বড় হচ্ছে। যখন কোরিয়া ও পোল্যান্ডের অর্থনীতিতে ত্রৈমাসিক হিসেবে পতন দেখা গিয়েছে।