ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইউরোপের দেশগুলোয় কয়েক মাস ধরে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। দেশটি ইউরোপের বাজারে এলএনজি সরবরাহের কথা ভাবছে। সম্প্রতি জাপানের সরকারি একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যম কিওডো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, জাপান মজুদকৃত এলএনজির একটি অংশ ইউরোপে সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর বৈরীভাব তৈরি হওয়ায় এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পরই ইউরোপে এলএনজি পাঠানো হবে।
তথ্য বলছে, জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে ইউরোপে বিদ্যুতের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ইউক্রেন সংকট বাজারকে আরো অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ফিচ রেটিংস জানিয়েছে, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এরই মধ্যে গ্যাসের বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজতে শুরু করেছে ইউরোপ। এক্ষেত্রে জাপান অঞ্চলটির জন্য রক্ষাকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম। প্রতিষ্ঠানটি নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইনের মাধ্যমে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে। বৈশ্বিক রেটিং এজেন্সিটি জানায়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় এ রুটে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। বিষয়টি গ্যাসের বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাজনৈতিক অস্থিরতার বাইরে আরো কিছু বিষয় ইউরোপের বাজারে সরবরাহকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে জ্বালানি পণ্যটির নিম্নমুখী মজুদ। পাশাপাশি রুশ কোম্পানি গ্যাসপ্রমের নিম্নমুখী সরবরাহও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
ফিচ রেটিংস বলছে, রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ইউরোপের সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানি। এ মহাদেশের গ্যাস চাহিদার এক-তৃতীয়াংশই পূরণ করে কোম্পানিটি। বিদায়ী বছর ইউরোপে গ্যাসের চাহিদায় পুনরুদ্ধার ঘটায় কোম্পানিটির সরবরাহ ছিল সীমিত। এছাড়া গ্যাজপ্রমসংশ্লিষ্ট মজুদাগারগুলোয় গ্যাসের ব্যবহার অনেকটাই কমে যায়। এসব কারণে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। বিষয়টি বিশ্ববাজারেও দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহসংক্রান্ত সব ধরনের শর্ত পূরণ করলেও স্পট মার্কেটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করেনি। ফলে গ্যাজপ্রমের পাইপলাইনযোগে ইউরোপের বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমেছে।
ফিচ জানায়, রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ কমায় বেশ বিপত্তিতে পড়ে ইউরোপ। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও বিকল্প উৎস থেকে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোয় এ সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে এশিয়াকে টেক্কা দিয়ে এলএনজির সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে ইউরোপের ভোক্তারা।
গ্যাস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইউরোপের দেয়া তথ্য বলছে, গত মাসে এ মহাদেশে গ্যাসের মজুদ ৫২ থেকে কমে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে মজুদের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার কোটি ঘনফুট। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে মজুদ ১ কোটি ৮০০ কোটি ঘনফুট কমে ৪ হাজার ২০০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।










