২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি আয় বেড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ও নেপালসহ প্রধান প্রধান আমদানিকারক দেশে মসলাপণ্যটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় রফতানি আয়ে এমন উল্লম্ফন এসেছে। আর এতে সহায়তা করেছে ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
তথ্য বলছে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ভারত সব মিলিয়ে ৪৬ কোটি ডলারের পেঁয়াজ রফতানি করে। মূল্যমানের দিক থেকে আগের বিপণন মৌসুমের তুলনায় রফতানি ২২ শতাংশ বেড়েছে। ওই মৌসুমে দেশটি ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রফতানি করেছিল। তবে পরিমাণের দিক থেকে রফতানি কমেছে। দেশটি ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি করেছে।
রুপির দিক থেকে রফতানি আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ। ২০২১-২২ মৌসুমে ভারত ৩ হাজার ৪৩২ কোটি রুপির পেঁয়াজ রফতানি করে। আগের মৌসুমে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮২৬ কোটি রুপি।
বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ ক্রেতা দেশ। ২০২১-২২ মৌসুমে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫৮ হাজার টন পেঁয়াজ কিনেছে। আগের মৌসুমে ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি ১৯ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যমানের দিক থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি ৭২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ভারত বাংলাদেশে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রফতানি করে। আগের মৌসুমে রফতানি করা হয়েছিল ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের পেঁয়াজ।
এদিকে মূল্যমানের দিক থেকে শ্রীলংকায় পেঁয়াজ রফতানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটিতে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পেঁয়াজ রফতানি করা হয়। আগের মৌসুমে রফতানি করা হয়েছিল ৪ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পেঁয়াজ।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপালও ভারতের অন্যতম শীর্ষ পেঁয়াজ ক্রেতা দেশ। ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি করা হয়। আগের মৌসুমে রফতানি করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার টন। সে হিসাবে রফতানি বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। মূল্যমানের দিক থেকে রফতানি ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। দেশটি থেকে রফতানি বাবদ আয় এসেছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগের মৌসুমে যা ছিল ২ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ডলার।
মালয়েশিয়া ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ পেঁয়াজ ক্রেতা দেশ। ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটিতে ১৭ লাখ টন পেঁয়াজ রফতানি করা হয়। আগের মৌসুমে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৮০ হাজার টন। অর্থাৎ দেশটিতে পেঁয়াজ রফতানির পরিমাণ কমেছে। তবে রফতানি আয় বেড়েছে। দেশটি থেকে পণ্যটি রফতানি বাবদ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করে ভারত। আগের মৌসুমে আয়ের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। সে হিসাবে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ভারতের অন্যতম পেঁয়াজ ক্রেতা দেশ। কিন্তু ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটি ভারতের কাছ থেকে তুলনামূলক কম পেঁয়াজ আমদানি করেছে। তথ্য বলছে, এ সময় ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি করে। আগের মৌসুমের তুলনায় রফতানি ২৮ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি দেশটি থেকে রফতানি আয়ও কমেছে। একটি বাণিজ্যিক সূত্র জানায়, ২০২১-২২ মৌসুমে বাড়তি জাহাজীকরণ ব্যয়ও রফতানি আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের রফতানি চাহিদা বর্তমানে বেশ ভালো। ফলে এশিয়াজুড়েই পণ্যটির রফতানি অব্যাহত আছে। চীনে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। মিসরেও উত্তোলন শুরুর পথে। পশ্চিম এশিয়ার বাজারে চাহিদায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে প্রথাগত বাজারগুলো ক্রয় অব্যাহত রাখবে।










