টানা সাত বছর ধরে থাইল্যান্ডে চিনির সমাপনী মজুদে প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। তবে ২০২০ সাল শেষে বদলে যেতে পারে চিত্রপট। এ সময় দেশটিতে চিনির সমাপনী মজুদ আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মূলত ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানির সম্ভাবনা দেশটিতে চিনির মজুদ কমিয়ে আনছে। খবর এগ্রিমানি ও বিজনেস রেকর্ডার।

ইউএসডিএ জানিয়েছে, ২০২০ সাল শেষে থাইল্যান্ডে চিনির সমাপনী মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টনে। এর মধ্য দিয়ে আগের বছরের তুলনায় দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির মজুদ কমতে পারে ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছর থাইল্যান্ডে চিনির সমাপনী মজুদ ছিল ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে থাইল্যান্ডে চিনির সমাপনী মজুদ কমতে পারে ৪৮ লাখ টন।

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে ২০১২ সালে সর্বশেষ চিনির সমাপনী মজুদে মন্দা ভাব দেখা গেছে। ওই বছর দেশটিতে চিনির মজুদ দাঁড়ায় ২৮ লাখ ১০ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। এরপর চলতি বছর ফের থাই চিনির মজুদ কমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় থাইল্যান্ডের অবস্থান চতুর্থ। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ড। গত বছর চিনির বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ একাই জোগান দিয়েছিল দেশটি। রফতানি হয়েছিল ১ কোটি ৬ লাখ ১২ হাজার টন চিনি, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দমমিক ৭০ শতাংশ কম।

চলতি বছর থাইল্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি রফতানির পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। এটাই হবে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চিনি রফতানির রেকর্ড। ২০১৮ সালে ১ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টন চিনি রফতানি করেছিল থাইল্যান্ড।