নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে ২০২০ সালে দীর্ঘদিন লকডাউন চলেছে ভারতে। লকডাউনে দেশটির উৎপাদন, আমদানি-রফতানি খাতের কার্যক্রম অনেকটা শ্লথ হয়ে এসেছিল। প্রভাব পড়েছে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তবে করোনা মহামারী ও লকডাউনের প্রভাব পড়েনি ভারতের তুলা রফতানিতে। মহামারীর মধ্যেও ২০২০ সালে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলা রফতানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও এগ্রিমানি।

ইউএসডিএর ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৪৫ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা রফতানি হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে ভারত থেকে পণ্যটির রফতানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ২০১৯ সালে ভারত থেকে সব মিলিয়ে ৩০ লাখ বেল তুলা রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির রফতানি ১৫ লাখ বেল বেড়েছে।

বিদায়ী বছরে ৪৫ লাখ বেল রফতানির মধ্য দিয়ে ভারতের তুলা রফতানিতে দুই বছরের মন্দা ভাব কেটেছে। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালেও ভারত থেকে আগের বছরের তুলনায় ৩২ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৩৫ লাখ ১১ হাজার বেল তুলা রফতানি হয়েছিল। এর আগে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তুলা রফতানির রেকর্ড হয় ২০১১ সালে। ওই বছর ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার বেল তুলা রফতানি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের বছরের তুলনায় ১২১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারী ও লকডাউনের জের ধরে বিদায়ী বছরে ভারতে তুলা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে পণ্যটি রফতানিতে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। মূলত দেশে দেশে পিপিইসহ বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও গার্মেন্ট পণ্যের বাড়তি চাহিদা ভারতীয় তুলার রফতানি বাজার চাঙ্গা করে তুলেছে।

ভারত বিশ্বের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশ। পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৮৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে ভারতে পণ্যটির উৎপাদন কমেছে ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

২০১৯ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে তুলা উৎপাদন ২০ লাখ বেল কমেছে।

ভারতের ইতিহাসে ২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি ৩ কোটি ১০ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

ভারতীয় তুলা খাতের প্রতিষ্ঠান সাউথ ইন্ডিয়া মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএমএ) সেক্রেটারি জেনারেল ড. কে সেলভারাজু বলেন, ২০২০ সালের মার্চে শুরু হওয়া লকডাউন ভারতীয় তুলা উৎপাদন খাতকে ভীষণ রকমের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ব্যাহত হয়েছে পণ্যটির উৎপাদন। তবে রফতানি খাতে এর প্রভাব পড়েনি। উৎপাদন কমে আসার বিপরীতে বাড়তি রফতানি চাহিদা ভারতের বাজারে তুলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতেও বাড়তির দিকে থাকতে পারে।

এদিকে এসআইএমএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাজারে তুলার দাম যে হারে বেড়েছে, তুলা থেকে উৎপাদিত সুতি সুতার দাম তেমন একটা বাড়েনি। ফলে আর্থিকভাবে ঝিঁকির মুখে পড়েছে ভারতীয় স্পিনিং শিল্প। কাঁচামালের বাড়তি দামে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে শিল্পসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তুলার দাম নাগালের মধ্যে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।