ভারতের উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি ১৩ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখ ২০ হাজার টনে। আমদানি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে পাম অয়েল। ইন্দোনেশিয়া রফতানি বন্ধ ঘোষণা করায় পণ্যটির আমদানি নিম্নমুখী। খবর ইকোনমিকটাইমস।
সলভেন্ট এক্সট্রাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত ৯ লাখ ১১ হাজার ৮৪৬ টন উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৭ টন।
আমদানীকৃত উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যে ভোজ্যতেলই ৯ লাখ ৮৫ হাজার টন। গত বছরের একই সময় ১০ লাখ ২৯ হাজার ৯১২ টন ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছিল। অন্যদিকে ভোজ্য নয়, এমন তেল আমদানি করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৬১ টন। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৪৩৫ টন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গত মাসে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি কমে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৯ টনে নেমেছে। গত বছরের এপ্রিলে আমদানি করা হয়েছিল ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩১ টন।
২০২১ সালের নভেম্বরে ভারতে তেল বিপণন মৌসুম শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমের প্রথম ছয় মাসে উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি বেড়েছে ৪ শতাংশ। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ লাখ ৭ হাজার ৫৭৪ টনে। আগের মৌসুমের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৬৪ লাখ ২৮ হাজার ৩৫০ টন। আগামী অক্টোবরে মৌসুম শেষ হবে।
এসইএ বলছে, ২৮ এপ্রিল থেকে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে পাম অয়েল ব্যবহারকারীরা বিপদে পড়েছেন।
ভারত প্রতি মাসে প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ টন পাম অয়েল ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া একাই সরবরাহ করে প্রায় তিন লাখ টন। মূলত আরবিডি পামঅলিন ও সমজাতীয় পণ্য আসে মালয়েশিয়া থেকে। বাকি ১০ শতাংশ থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশ সরবরাহ করে।
এসইএ জানায়, চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই পাম অয়েল রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেবে ইন্দোনেশিয়া। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তবে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ আকার ধারণ করবে।
মৌসুমের প্রথম ছয় মাসে পরিশোধিত তেল (সব ধরনের পরিশোধিত পামঅলিন) আমদানি ৯ লাখ ২০ হাজার ৯৪৭ টনে উন্নীত হয়েছে।










