রফতানি খাতের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে এ খাতে দেশটির আয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। আয় কমার অন্যতম কারণ হিসেবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতনকেও দায়ী করা হয়েছে। খবর আরটি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে রফতানি খাতে ৪২ হাজার ২৭০ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা ২০২২ সালের রেকর্ড ৫৯ হাজার ২১০ কোটি ডলারের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এছাড়া এ আয় চার বছরের হিসেবে সর্বনিম্ন। একই সময়ে দেশটির আমদানি ৩০ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, বছরওয়ারি হিসাবে যা ১০ শতাংশ বেশি এবং ২০২১ সালের স্তরে ফিরে এসেছে বলেও ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে ২০২৩ সালে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০ কোটি ডলার, যেখানে ২০২২ সালে এর পরিমাণ ছিল রেকর্ড ২৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশটির ফ্ল্যাগশিপ ইউরাল মিশ্রণের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার ছিল, যা ২০২২ সালের রেকর্ড ৭৬ ডলার ১০ সেন্টের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মাকসিম ওরশকিন জানান, দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে হাইড্রোকার্বন রাজস্বের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল। এছাড়া জ্বালানি রফতানি আশানুরূপ নয় বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

ডিসেম্বরে দেয়া এক বিবৃতিতে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানান, দেশটির জিডিপিতে জ্বালানি খাতের অবদান ২৭ শতাংশের কাছাকাছি। অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে দেশের মোট আয়ের ৫৭ শতাংশই জ্বালানি তেল ও গ্যাসনির্ভর।

গত বছর জি সেভেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সমুদ্রপথে সরবরাহকৃত রাশিয়ান জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল ৬০ ডলার বা তার কমে কেনা না হলে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো বীমাসহ অন্যান্য পরিষেবা সুবিধা দিতে পারবে না। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ান পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।