আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল কিছুটা স্থিতিশীল ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বিভিন্ন বাজার আদর্শে পণ্যটির মূল্য কমেছে সামান্য। যদিও সার্বিকভাবে পণ্যটির সাপ্তাহিক বাজার শেষ হয়েছে ঊর্ধ্বমুখিতায়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মুহূর্তে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে চলমান বিভিন্ন সংকট। এর প্রভাবে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে গতকালের বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেশ সতর্ক মনোভাব দেখা গেছে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে এদিন পণ্যটির দাম কমেছে সামান্য।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) গতকাল জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ব্যারেলে ১৬ সেন্ট। ফ্রন্ট মান্থ ডেলিভারি বা ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে গতকাল পণ্যটি কেনাবেচা হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলার ৭৯ সেন্টে। এ চুক্তির আওতায় গতকাল ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। নিমেক্সে এখন মার্চে সরবরাহের চুক্তির আওতায় জ্বালানি তেল কেনাবেচা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ চুক্তিতে গতকাল ১১ সেন্ট কমে পণ্যটির মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলার ৮৪ সেন্টে। মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। 

দাম কমেছে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টেরও। আইসিই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জ ইউরোপে গতকাল মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম কমেছে ব্যারেলে ১২ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ। আইসিইতে এদিন ব্রেন্ট কেনাবেচা হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৭৮ ডলার ৯৮ সেন্টে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে পণ্যটির দাম বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ।

টরন্টোভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের কমোডিটি অ্যানালিস্ট মিশেল ট্রান গতকাল গ্রাহকের জন্য এক নোটে লিখেছেন, ‘‌জ্বালানি তেলের বাজার এবার বছর শুরু করেছে মারাত্মক টানাপড়েনের মধ্যে। সার্বিক পরিস্থিতিকেও এখন বর্ণনা করতে হচ্ছে সাংঘর্ষিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত। কিন্তু বাজারের ঘটনাপ্রবাহ এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে কেন্দ্র করে। সব মিলিয়ে পর্যবেক্ষকদের পক্ষেও এখন বাজারকে সহজভাবে বিশ্লেষণ করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

লোহিত সাগরে ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই আবার বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে দেখা দিয়েছে নতুন উত্তেজনা। পরস্পরের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরান ও পাকিস্তান একে অন্যের ভূমিতে সামরিক হামলা চালিয়েছে। আবার ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন হুথির সদস্যরাও এখন লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে মিসাইল ও ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে বিঘ্ন ঘটছে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায়। জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে এখন জাহাজের মুখ ঘুরিয়ে বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছতে হচ্ছে গন্তব্যে। 

নিউইয়র্কভিত্তিক ফরেন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএর বিশ্লেষক ক্রেগ এরলামের ভাষ্যমতে, ‘‌অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাপ্রবাহের সংযোগ থাকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে মোটামুটি ভারসাম্য আছে বলা চলে। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে।’