২০১৯ সালে ভারত থেকে কফির রফতানি বাড়লেও এ খাতে দেশটির আয় ৫ শতাংশ কমেছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির অব্যাহত দরপতন এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় কফি বোর্ড সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর হিন্দু বিজনেস লাইন ও কমোডিটি অনলাইন।
ভারতীয় কফি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে দেশটি সব মিলিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টন কফি রফতানি করে, যা থেকে দেশটির আয় হয় ৭৯ কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর আগের বছর রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টন, যা থেকে আয় হয়েছিল ৮৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে পানীয় পণ্যটির রফতানি বেড়েছে ১ হাজার ৭০০ টন। কিন্তু এ খাতে আয় কমেছে ৪ কোটি ১৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
ভারতে স্বল্প পরিমাণ কফি উৎপাদিত হয়। বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদনকারী বিভিন্ন দেশ থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে অপরিশোধিত কফিবিন আমদানি করে ভারত। আমদানীকৃত পণ্যটি প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কফিজাত পণ্যে (ইনস্ট্যান্ট কফি) রূপান্তর করে আবার তা আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করে দেশটি। এ ধরনের পণ্যের প্রধান গন্তব্য রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো।
২০১৯ সালে দেশটি থেকে এ ধরনের কফি রফতানি বেড়েছে, যা সামগ্রিক রফতানি বাড়াতে প্রভাব রেখেছে। এ সময়ে দেশটি মোট ৮৯ হাজার ১৯৩ টন কফি আবার রফতানি করেছে। আগের বছরে এর পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ২৬০ টন। এদিকে বিদায়ী বছরে দেশটির অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত কফি রফতানি কমেছে। এ সময় ২ লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টন অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত কফি রফতানি করেছে ভারত। ২০১৮ সালে রফতানি হয়েছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টন।
ভারতীয় কফির শীর্ষ ক্রেতা দেশ ইতালি। দেশটি সাধারণত ভারত থেকে অপরিশোধিত কফিবিন আমদানি করে। এবার দেশটিতে মোট ৭২ হাজার ২৬৫ টন ভারতীয় কফি রফতানি হয়েছে, যা মোট রফতানির এক-পঞ্চামাংশ। পণ্যটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ গন্তব্য দেশ জার্মানি ও রাশিয়া। গেল বছর জার্মানি ৩৭ হাজার ১৭৫ টন ভারতীয় কফি আমদানি করেছে। ইনস্ট্যান্ট কফির শীর্ষ ক্রেতা রাশিয়া কিনেছে ২৮ হাজার ৫৭৩ টন।









