গত মাসে চীনের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বিদ্যুতের ঊর্ধ্বমুখী ব্যবহার। শুধু গত মাসেই নয়, বছরের প্রথম পাঁচ মাসেও উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লকডাউন উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে বাড়ছে শিল্প উৎপাদন। অন্যদিকে জ্বালানি সংকট কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। ফলে অ্যালুমিনিয়াম বিগলন কারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদন শুরু করেছে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক দেশ। ধাতুটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহারও হয় এ দেশে। মে মাসে দেশটিতে ধাতুটির উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ২০ হাজার টনে। ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায়ও উৎপাদন বেড়েছে। ওই মাসে উৎপাদন হয় ৩৩ লাখ ৩০ হাজার টন।
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে দৈনিক ১ লাখ ১০ হাজার ৩২২ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে চীন। সে হিসাবে এপ্রিলের তুলনায় দৈনিক উৎপাদন কমেছে। ওই মাসে দেশটি দৈনিক ১ লাখ ১২ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছিল, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
সিআরইউ রিসার্চের অ্যালুমিনিয়ামের বাজার বিশেষজ্ঞ ওয়ান লিং বলেন, লকডাউন শিথিল হতে থাকায় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব কেটে গিয়েছে। ফলে মে মাসে উৎপাদন অব্যাহত বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, চলতি ও আগামী মাসেও উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ গত বছরের শেষ সময় থেকেই দেশটিতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। জ্বালানিনির্ভর অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন গত বছর বেশ বড় রকমের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। কারণ জ্বালানি ও পানি সংকটে ওই সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করে দেয় দেশটির সরকার। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যও অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকে নিম্নুমুখী করে তোলে। অবশ্য এতসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও গত বছর দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হয়েছিল। উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীন ১ কোটি ৬৪ লাখ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া তামা, অ্যালুমিনিয়াম, সিসা, দস্তা ও নিকেলের মতো নন-ফেরাস ধাতু উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টনে।










